ভবন রক্ষা ও শশীভূষণ পাল চিত্রশিল্প জাদুঘরের দাবি: ১৮ নাগরিকের বিবৃতি

পূর্ব বাংলার শিল্প সংগ্রামের স্মারক খুলনার ঐতিহাসিক ভবন রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের ১৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক। সোমবার ১৮ নাগরিকের পক্ষে বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠান সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ।

বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন- আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী, সৈয়দ হাসান ইমাম, অনুপম সেন, রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, সারওয়ার আলী, আবেদ খান, সেলিনা হোসেন, লায়লা হাসান, আবদুস সেলিম, মফিদুল হক, শফি আহমেদ, শাহরিয়ার কবীর, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, মুনতাসীর মামুন, সারা যাকের, শিমূল ইউসুফ ও গোলাম কুদ্দুছ।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পূর্ব বাংলা তথা বর্তমান বাংলাদেশের শিল্পরুচি-বোধ,  ইতিহাস, ঐতিহ্যের স্মারক ১৯০৪ সালে শিল্পী শশীভূষণ পাল কর্তৃক স্থাপিত দেশের প্রথম অঙ্কন শিল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মহেশ্বরপাশা স্কুল অব আর্ট। নিজ বাড়িতে তিনি এই শিল্প বিদ্যালয় টি প্রতিষ্ঠা করেন শশীভূষণ পাল। তার অক্লান্ত পরিশ্রমে ১৯২৯  সালে নিজ বাড়িতেই চিত্রশিল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সুরম্য ভবন নির্মাণ করা হয়। এই ভবনটিতে দীর্ঘ সময় আর্ট স্কুলটির কার্যক্রম চলে। বর্তমানে ঐতিহ্যের স্মারক এ ভবনটি ভেঙে ফেলার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

আমরা ফেসিলিটিজ অধিদপ্তরের এহেন দায়িত্ব জ্ঞানহীন ঐতিহ্য ও ইতিহাস ধ্বংসের কর্মকাণ্ডে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। ভবনটি ঘিরে প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় গড়ে উঠেছে । ১৯৭৪ সালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন ও কবি জসিমউদ্দীন এই প্রতিষ্ঠানটিকে বাংলাদেশের প্রথম অঙ্কন শিল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানর  মর্যাদা দিয়েছিলেন। শিল্পী সুলতান নানা সময়ে এ প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন। ১৯৮৩ সালে আর্ট স্কুলটি খুলনা শহরে স্থানান্তরিত হয়ে খুলনা আর্ট কলেজ ও বর্তমানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে খুলনা আর্ট ইনস্টিটিউট হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। গত শতকে শশীভূষণ পাল নামে একজন শিল্পপ্রেমী মানুষ তার নিজ বাড়িতে বাংলাদেশের প্রথম চিত্রশিল্প বিদ্যালয় স্থাপন করে যে নজির স্থাপন করেছিলেন তা আমাদের ইতিহাসের গৌরবের অধ্যায়। নিজ বাড়িতে নিজস্ব চেষ্টায় যে সুরম্য ভবন তৈরি করেছেন তা আমাদের ঐতিহ্যের স্মারক। সেই স্মারক ভেঙে ফেলার অর্থ হচ্ছে নিজ গৌরবের ইতিহাস থেকে বাংলাদেশকে এবং দেশের জনগণকে  বিচ্ছিন্ন করা। আমরা এহেন অপ-পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। একই সাথে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে এ ভবন রক্ষা করে তা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে 'শশীভূষণ পাল চিত্রশিল্প জাদুঘর' এ রূপ দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।