‘অনভ্যস্ততাতেই এমন ব্যর্থতা’

ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের ব্যাটিং কোচ অ্যাশওয়েল প্রিন্স। ১২৬ রানে অলআউটের ব্যাখ্যা দেওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি। মাউন্ট মঙ্গানুইতে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস টিকেছিল ১৭৬ ওভারের মতো। কিন্তু গতকাল মাত্র ৪১.২ ওভারেই শেষ। দুই মাঠের পিচে যে অনেক ব্যবধান তাতে সন্দেহ নেই। তবুও ইতিহাস গড়া আত্মবিশ্বাসী ব্যাটারদের এতটা খারাপ করার কথা না। দিন শেষে সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যানের চোখে এর কারণ হলোÑ অনভ্যস্ততা। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা তো এমন পিচে হরহামেশা খেলে থাকেন কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাটাররা তো শুধু বিদেশের মাটিতে কালেভদ্রে। এ কারণেই প্রথম ইনিংসে এই ব্যাটিং ভরাডুবি।

টেস্টে ভালো করার একমাত্র উপায় ঘরোয়া ক্রিকেট শক্ত করা। যেখানে ভালো উইকেটে ব্যাটিং করে নিজেদের প্রস্তুত করবেন ব্যাটাররা। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে বরাবরই স্পিন উইকেট করে ধীর ও নিচু বাউন্সের উইকেটে খেলানো হয়। তাই নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে অতি বাউন্সি ও সুইংনির্ভর উইকেট বাংলাদেশ ব্যাটারদের জন্য স্বভাবতই কঠিন। এই অনভ্যস্ততার পাশাপাশি বেশি বেশি বল খেলাটাও কাল হয়েছে ব্যাটারদের। অফস্টাম্পের বাইরের বলগুলো ছেড়ে দেওয়ার থাকলেও তা খেলতে গিয়ে উইকেট দিয়ে এসেছেন সাদমান-শান্তরা। প্রিন্স বলেন, ‘কাল (প্রথম দিন) দেখলাম পিচ কিছুটা ধীর ছিল, আজ (কাল) সেখানে পেসাররা গতি ও বাউন্স পাচ্ছিল। আর কিউই পেসাররা সেটা কাজে লাগিয়ে সুইংও আদায় করে নেয়। কিউইরা কাল অফস্টাম্পের বাইরের অনেক বল ছেড়েছে। আমরা মাউন্টে (প্রথম টেস্ট) একই কাজ করেছি কিন্তু এখানে দুর্ভাগ্যবশত তা পারিনি। আসলে এটা হয়েছে অভ্যাস না থাকার কারণে। অফস্টাম্পের বাইরে বল ছাড়ার বিষয়টি নিউজিল্যান্ড ব্যাটারদের সহজাত, কারণ ওরা এমন উইকেটে সবসময় খেলে। কিন্তু আমাদের ব্যাটাররা ঘরোয়া লিগগুলো বা টুর্নামেন্টে বল বেশি খেলে। মাউন্টে আমরা ব্যাকফুটে খুব ভালো খেলেছি কিন্তু এখানে তা পারিনি। আমাদের এখনো এক ইনিংস আছে, আশা করি কাল আমরা বাইরের বলগুলো ছাড়তে পারব ও লম্বা সময় ব্যাট করতে সফল হব।’

যে পিচে শীর্ষ চার ব্যাটসম্যান হতাশ করেছেন, একই পিচে পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটি গড়েছেন নুরুল হাসান সোহান ও ইয়াসির আলি। ওই সময়টায় সোহান একা হাতে রান তুলেছেন দ্রুত গতিতে। তার ব্যাটে বাউন্ডারিই ছিল বেশি। প্রিন্স বললেন, ইনিংসের ওই সময়টায় উইকেট সহজ হয়ে যায়। তাই দুজন সফল হয়েছে, ‘সোহান খুব ইতিবাচক খেলেছে, শট নিতে ভয় পায়নি। ইয়াসির মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমে তার সেরা ইনিংসটা খেলেছে। কারণ এমন উইকেটে ওর মতোই ব্যাট করতে হয় যদি আপনি শট করেন তবে সাহস নিয়ে করবেন আর যদি ডিফেন্স করেন তবে শক্তভাবে করবেন। ইয়াসির সেই কাজটা করেছে।’

লম্বা ফরম্যাটে খুব কমই খেলেছেন নাঈম শেখ। মাত্র ৬ ম্যাচে ১৬ গড়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে নামা খুবই কঠিন। অথচ দলে সাকিব আল হাসানের জায়গায় জাতীয় লিগে ৫০০’র ওপর রান পাওয়া ফজলে রাব্বি থাকলেও তাকে খেলানো হয়নি। এই প্রশ্ন প্রিন্স ঠেলে দিয়েছেন দল নির্বাচন প্যানেলের দিকে, যার অংশ তিনি নন। অবশ্য টপঅর্ডার রান পেলে এই প্রশ্ন হতো না বলে মন্তব্য করেন প্রিন্স, ‘অবশ্যই আমরা হতাশ। গত টেস্টে এত ওভার খেলে এবার এত কম এটা মানা যায় না। ওরা রান পেলে প্রশ্ন অন্যরকম হতো। নিউজিল্যান্ড শক্তভাবে ফিরতে চাইবে তা জানতাম, এখন আমরাই ওদের আরও সহজ করে দিয়েছি। আশা করি দ্বিতীয় ইনিংসে ম্যাচে ফেরার লড়াই দিতে হবে আমাদের।’

এটাই টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্য : বোল্ট

৫ উইকেট শিকারি ট্রেন্ট বোল্ট দিন শেষে জানালেন, শুধু ঘাস নয় হ্যাগলি ওভালের বাতাসও সুবিধা দিয়েছে তাদের ‘এটাই টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্য। ভিন্ন ভেন্যুতে ভিন্ন চিত্র এসেছে। উইকেটের ঘাস ও বাতাস এতে ভূমিকা রেখেছে। আমার মনে হয় শুরুতেই কয়েকটা উইকেট তুলে ফেলা টোন সেট করে দেয়, চাপটা ওদের দিকেই থেকে যায়। আমরা যেটা বলেছিলাম সেটাই করতে পেরেছি। সাধারণ ব্যাপারই করেছি, ওদের সামনের পায়ে খেলতে দেওয়া।’