গত বছর নিউজিল্যান্ড সফরে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলে ৬ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। আগে কখনই জিততে না পারার অতীত ভাঙার সম্ভাবনা ছিল সেবার। কিন্তু আগের মতো ব্যর্থতাই সঙ্গী হয় বাংলাদেশের। এবার টেস্ট সিরিজ খেলতে গিয়ে মুমিনুল হকরা জয়ের দেখা পাবে তা কল্পনাও করেনি কেউ। অথচ নিউজিল্যান্ডে জয়ের শূন্যতা দূর হলো টেস্ট জয়ের ইতিহাস রচনা করেই। দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ১১৭ রানের হারে সিরিজ জেতা হয়নি অবশ্য। তবে এই সিরিজ থেকে মুমিনুল হকরা সেরা অর্জন নিয়ে দেশে ফিরছে। অধিনায়কের চোখে অর্জনটা হলো বিদেশের মাটিতে জিততে পারার। এর উল্টো পিঠও দেখছেন মুমিনুল। এই সাফল্যের কারণে সামনের দক্ষিণ আফ্রিকা, উইন্ডিজ সফরগুলো আরও চ্যালেঞ্জিং হবে বাংলাদেশের।
ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট হার নিয়ে অনেক কাজ করবেন মুমিনুল। সেসব বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতেও যে বাংলাদেশ সেরা দলগুলোর মাঠে গিয়ে টেস্ট জিতবে সেই আশার বাণী শোনালেন অধিনায়ক। তবে তিনি জানান সবচেয়ে বড় বিষয় হলো মানুষের মনে বিশ্বাস তৈরি করা। আর মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্ট জিতে সেই বিশ্বাস তৈরি করেছে দল, ‘আমি খুব কঠিন সময়ে নেতৃত্ব পেয়েছিলাম। তখন তো আমি স্বপ্ন দেখতাম বড় দলের বিপক্ষে ম্যাচ জেতার। মানুষের বিশ্বাসটা তো আসে চোখে দেখার (করে দেখানোর) থেকে। প্রথম টেস্ট জেতার পর এখন আপনারা, আমি, দলের সবাই বিশ্বাস করতে পারছি, আমাদের সামর্থ্য আছে। বিদেশে গিয়ে টেস্ট ম্যাচ জিততে পারি। এখন একটা টেস্ট জিতলাম, পরে আরেকটা টেস্ট জিতব, এভাবে এক সময় আমরা সিরিজ জিতব। তো ওই বিশ্বাসটা সবার ভেতরে আনা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে মনে করি। প্রথম টেস্ট জেতাতে মনে হয় ওই বিশ্বাসটা সবার ভেতরে এসেছে।’
প্রথম টেস্টের সাফল্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল বলে মনে করেন মুমিনুল। দ্বিতীয় টেস্টে আবারও সেই চেষ্টায় সফল হলে জয় পেতেন। পুরো সিরিজে দলীয় সাফল্যটাকে সবচেয়ে বড় করে দেখছেন মুমিনুল। এভাবে প্রতি ম্যাচে ছোট ছোট অবদানে সাফল্য পেতে চান। ক্রাইস্টচার্চে ব্যর্থতা হিসেবে প্রথম ইনিংসকেই সামনে আনলেন। ওই ইনিংসে ব্যাটাররা ছোট অবদান রাখতে পারলেও লড়াই হতো বলে মুমিনুলের বিশ্বাস। এছাড়া সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে নিজের ব্যর্থতাকেও বড় করে দেখেছেন মুমিনুল, ‘আমরা যতটা আশা করেছিলাম, বোলিংটাও তেমন করতে পারিনি। এরপরও প্রথম ইনিংসে রাব্বির ফিফটি ছিল, সোহান ৪১-এর মতো করেছে। আমার মনে হয়, সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে, অধিনায়ক হিসেবে আমার আরও ভালো করা উচিত ছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে লিটনের সেঞ্চুরি অসাধারণ একটা ইনিংস। সোহানও খুব ভালো করছিল।’
পরের টেস্ট সিরিজ খুব সম্ভব ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে। অবশ্য এই সিরিজের ঘোষণা এখনো আসেনি দুই বোর্ডের থেকে। তবে নিশ্চিত সিরিজ বলতে মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। সেখানে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দুই ম্যাচ খেলবেন মুমিনুলরা। এছাড়া উইন্ডিজ সফরও আছে। বিদেশে আবার টেস্ট জয়ের জন্য এবার কতদিনের অপেক্ষায় থাকতে হবে বাংলাদেশকে? এই প্রশ্নের জবাবেই মুমিনুল জানালেন, জয়ের চিন্তা না করে চ্যালেঞ্জ জয়ের চিন্তা করবেন তারা। কারণ এখন আর প্রতিপক্ষরা নিজ মাঠেও বাংলাদেশকে অবজ্ঞা করবে না, ‘এখন তো আমাদের জন্য আরও অনেক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। কারণ, আমরা যখন বিদেশে খেলতাম, তখন ধরে নিত আমরা বিদেশে খুব একটা ভালো করতে পারি না। প্রতিপক্ষ ওভাবেই চিন্তা করত। এখন সবার মধ্যে সচেতনতা চলে আসবে। সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ আছে, শ্রীলঙ্কা সিরিজ আছে, এরপর আবার উইন্ডিজে আছে। সবাই আরও বেশি সচেতন হবে। আমার কাছে মনে হয় আমাদের জন্য আরও বেশি চ্যালেঞ্জ হবে। জিনিসটা এত সহজ হবে না। আরও চ্যালেঞ্জিং হবে, তো এই চ্যালেঞ্জ জিনিসটা আমাদের নিতে হবে।’