স্মরণসভায় বক্তারা

সাংবাদিক মিজানুর রহমান ছিলেন অনুকরণীয়

জাতীয় জীবনে বিশিষ্ট আইন বিশ্লেষক ও সাংবাদিক মিজানুর রহমান খানের অনেক অবদান রয়েছে। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের একজন উজ্জ্বল  দৃষ্টান্ত, নক্ষত্র ও অনুকরণীয়; যার সমতুল্য দেশে এমন সাংবাদিক এখন আর নেই। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘আমাদের একজন মিজানুর রহমান খান ছিলেন’ শীর্ষক এই স্মরণসভায় সহকর্মী ও বন্ধুজনেরা এসব কথা বলেন। স্মরণসভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মিজানুর রহমান খান যখন আমাকে বিভিন্ন বিষয় জিজ্ঞেস করতেন, এত খুঁটে খুঁটে জানতে চাইতেন যে আমি অবাক হয়ে যেতাম, আমি এখন পর্যন্ত তার লেখনী সমতুল্য কোনো সাংবাদিকের লেখা পাইনি।’

আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. আব্দুল মতিন বলেন, ‘মিজানুর রহমান খান মৃত্যুর ১৩ দিন আগে আমার সঙ্গে আদালতে আলাপকালে বলেন, “স্যার, আমি আর সাংবাদিকতা করতে চাই না, যদি জীবনে অন্য কোনো কিছু শিখতাম, তাহলে সাংবাদিকতা ছেড়ে দিতাম। কারণ ইদানীং আমি দেখছি যা দেখেছি ও শিখেছি, এখন আর তা লিখতে পারি না, আমি ভয়ের মধ্যে আছি।” আমি মনে করি, তিনি আর বেশি দিন বাঁচতে চাননি।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘মিজান ছিলেন বাংলাদেশের একজন শ্রেষ্ঠ মানুষ, মিজানের শূন্যস্থান এ দেশে আর পূরণ হবে না। আজকে আর কেউ মিজানুর রহমান খানের মতো বিচারাঙ্গন নিয়ে এভাবে কেউ লেখেন না। তিনি ছিলেন সৎ, নির্ভীক ও সাহসী সাংবাদিক।’ হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ও কলামনিস্ট ফারুক ওয়াসিফ, মানবাধিকারকর্মী নুর খান লিটন, পরিবেশবাদী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, মিজানুর রহমান খানের স্ত্রী, ছেলে সাদমান হোসেন ও ছোট ভাই সাংবাদিক মশিউর রহমান খান প্রমুখ।