দিন শেষে আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও নাসিক নির্বাচনের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক।
আরও বলেন, ‘এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের দলের ভেতর ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ধূম্রজাল এখন নেই। সেই ধূম্রজাল কেটে গিয়েছে।’
গতকাল মঙ্গলবার রাতে খানপুর বউবাজার এলাকায় ১২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ আয়োজিত নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় হাতি প্রতীকের প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ধূম্রজাল কেটে যাওয়ার সাথে সাথে না বিএনপি, না খেলাফত কি যে উনি তা নিজেই ঠিক করতে পারেন না। কখনো উনি বলেন বিএনপির প্রার্থী, কখনো বলে আমি মানুষের প্রার্থী। উনি উন্মাদ হয়ে গেছেন। উনি বুঝেছেন যে ওনার পায়ের তলায় মাটি নেই। আর পায়ের তলায় মাটি নেই বলে এখন নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার জন্য ক্ষেত্র তৈরি করছেন। তার প্রতি অনুরোধ, দয়া করে নির্বাচন থেকে সরে যাবেন না৷ ১৬ তারিখ নির্বাচনের ফলাফল দেখে তারপর যান।’
নানক আরও বলেন, ‘আমি এই নারায়ণগঞ্জবাসীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। কী সুন্দর ও শান্তিময় সুশৃঙ্খল পরিবেশ এবং আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে এই নির্বাচনের আমেজ বয়ে যাচ্ছে। সে নির্বাচনী আমেজে কেউ যদি ছন্দপতন ঘটানোর চেষ্টা করে, তৈমুর সাহেব, আমরা তা হতে দিবো না।’
তিনি বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার বার্তা পৌঁছে দিতে আমরা নারায়ণগঞ্জে এসেছি। এই নারায়ণগঞ্জ কি উন্নয়নের পথে হাঁটবে নাকি অবনতির দিকে যাবে ১৬ তারিখ সেটি নির্ধারণ করবেন আপনারা। আমরা তো ভাষণ দিয়ে চলে যাবো কিন্তু সিদ্ধান্ত আপনাদের কাছে। এই নারায়ণগঞ্জে যিনি জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রার্থী তিনি আপনাদের কাছে অপরিচিত নন। তিনি তিন-তিনবার আপনাদের ভোটে এই পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আইভীকে দিয়ে আমি উন্নয়ন করিয়েছি। কাজেই আপনারা আবারও তার মনোনীত প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে বিজয়ী করুন। সকল উন্নয়নের দায়িত্ব আমি নিলাম।’
নগরীর ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর দিকে ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যে খুনিরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছে, শিশু রাসেলকেও তারা খুন করতে দ্বিধাবোধ করেনি,যারা কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে রাতের অন্ধকারে নির্মমভাবে হত্যা করেছে সেই হত্যাকারীদের একজনের ভাই নারায়ণগঞ্জ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনে ওই খুনির ভাইকে প্রত্যাখ্যান করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন।
এ সময় ১২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জয়নাল আবেদীন টুলুর সভাপতিত্বে ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা সামসুজ্জামান ভাসানীর সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম,সদস্য আনোয়ার হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, অ্যাড. মাহমুদা মালা, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুন্দর আলী, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া সাজনু, ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী হাজী মো. সেলিম খান প্রমুখ।