‘রাজপথ রক্তে রঞ্জিত করে হলেও খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের নেত্রী খালেদা জিয়াকে জেলে আটকে রেখে স্লো পয়জনিংয়ের মাধ্যমে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তাই তার জীবন বাঁচাতে, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে অবিলম্বে তাঁকে মুক্ত করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনে গুলি খেতে হবে। রাজপথ রক্তে রঞ্জিত করে হলেও খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। তবেই দেশের গণতন্ত্র মুক্তি পাবে।’

বুধবার বিকেলে সিলেট সদর উপজেলার টুকেরবাজারে জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতীকী নয়, আসল কাফনের কাপড় পরে আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার আন্দোলনে যদি আমার শরীর গুলিবিদ্ধ হয়, তবে আমি গর্বিত শহীদ।’

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার দাবিতে সমাবেশে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘এ দেশের গণতন্ত্রের কান্ডারি খালেদা জিয়া। তিনি জনগণের ভাষা বোঝেন। আজ পর্যন্ত যত জায়গা থেকে তিনি যত নির্বাচন করেছেন, সবগুলোতে জয়ী হয়েছেন। আর তাকে যিনি বন্দী করে রেখেছেন তিনি সাদেক হোসেন খোকা, মেজর মান্নানের কাছেও হেরেছেন। পরাজিত হয়ে আর ঢাকায় নির্বাচন করেননি’।

টুকু আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র উপহার দিয়েছিলেন। তিনি কেয়ারটেকার সরকার দিয়েছেন। নির্বাচনে পরাজিত হয়ে বিরোধীদলীয় নেত্রী হয়েছেন। একেই বলে গণতন্ত্র। তিনি চাইলে সেদিন আন্দোলন দমিয়ে জোর করে ক্ষমতায় থাকতে পারতেন। কিন্তু খালেদা জিয়া সেটি করেননি। কারণ তিনি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী’।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল করে ইতিহাস পাল্টে দিয়েছে। আজকে ইতিহাসে কেবল একটিই পাতা। সেই পাতায় লেখা হয়েছে, স্বাধীনতাযুদ্ধে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কেউ যায়নি’।

টুকু প্রশ্ন রেখে বলেন, তাহলে বাকিরা কী করেছে। মূলত এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষ লুঙ্গি পরে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে।            

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, তাহসিনা রুশদীর লুনা, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সিলেট মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকী প্রমুখ। 

সমাবেশে সিলেট জেলা ও জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিএনপি নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল সহকারে যোগ দেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল।