ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে কাওয়ালি গানের অনুষ্ঠানে হামলার অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে টিএসসির পায়রা চত্বর এলাকায় ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দামের ‘হুকুমে’ কর্মীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছিলেন আয়োজকেরা।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ভিডিও বার্তায় তার বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, রাজনীতিতে দাঁড়াতে না পেরে সাংস্কৃতিক মুখোশে, কাওয়ালিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কিছু সাম্প্রদায়িক ছাত্র সংগঠন এটি ঘটিয়ে ছাত্রলীগের ওপর দোষ দিচ্ছে। এখানে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করেছে তারা। এই অনুষ্ঠানে মৌলবাদী গোষ্ঠীর ছাত্রদের আয়োজক করা হয়েছে। ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র অধিকার পরিষদ নামের মৌলবাদী ছাত্র সংগঠনগুলো এর আয়োজক হিসেবে এই ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করেছে।
ছাত্রলীগ সব সময় সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ হামলার সঙ্গে ছাত্রলীগ জড়িত থাকার কোনো প্রশ্নই আসে না। আয়োজকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এ হামলা হয়েছে। ছাত্রলীগ আগেও এ ধরনের অনুষ্ঠানে সর্বাত্মক সহায়তা করেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন করবে। ছাত্রলীগ আউল বাউল কাওয়ালি গান গভীরভাবে ভালোবাসে। কাওয়ালির সঙ্গে বাঙালি জাতীয়তাবাদের কোনো বিরোধ নেই। টিএসসিতে যারা প্রগতিশীল ধ্যানধারণা পোষণ করেন তারাই এই ধরনের আয়োজন করবে। কোনো সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে এই আয়োজন করে ফায়দা লুটের সুযোগ দেওয়া হবে না।
এই আয়োজনে হামলাকে পূর্বনির্ধারিত নাটক উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এটি ছাত্রলীগকে টার্গেট করে স্ক্রিপ্ট করা। তারা নিজেরা সংঘর্ষে জড়িয়ে কোনো প্রমাণ ছাড়া ছাত্রলীগের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে কাওয়ালি অনুষ্ঠানের ওই আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক তিন শিক্ষার্থী। সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা ছিল। আগে থেকে কাওয়ালি শুনতে টিএসসিতে অনেকে ভিড় করতে থাকেন। একপর্যায়ে উপস্থিতদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা কাওয়ালি অনুষ্ঠানের মঞ্চে ভাঙচুর শুরু করে। ভাঙচুরকারীরা আয়োজকদের কয়েকজনকে মারধর করে। এতে কয়েকজন আহত হন।