সাদ্দামের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে যা বললেন কাওয়ালি অনুষ্ঠানের আয়োজক হুযাইফা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে কাওয়ালি গানের অনুষ্ঠানে গতকাল বুধবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের ‘হুকুমে’ ছাত্রলীগ এই হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেছে আয়োজকেরা।

আয়োজকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এক ভিডিও বার্তায় ছাত্রলীগের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন। এ ছাড়া তিনি এটি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর রাজনৈতিক ফায়দা লুটার একটি এজেন্ডা বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, রাজনীতিতে দাঁড়াতে না পেরে সাংস্কৃতিক মুখোশে, কাওয়ালিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কিছু সাম্প্রদায়িক ছাত্র সংগঠন এটি ঘটিয়ে ছাত্রলীগের ওপর দোষ দিচ্ছে। এখানে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করেছে তারা। এই অনুষ্ঠানে মৌলবাদী গোষ্ঠীর ছাত্রদের আয়োজক করা হয়েছে। ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র অধিকার পরিষদ নামের মৌলবাদী ছাত্র সংগঠনগুলো এর আয়োজক হিসেবে এই ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করেছে।

ছাত্রলীগের এই নেতার বক্তব্যে অনুমতি না নিয়ে অনুষ্ঠান করারও অভিযোগ ছিল।

অনুমতি নেয়ার বিষয়ে অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক মীর হুযাইফা আল মামদূহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তারা অনুমতি নিয়েই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। তবে, তাদের অনুষ্ঠান বাতিলের জন্য সাদ্দাম হোসেন প্রক্টরিয়াল বডিকে চাপ প্রয়োগ করেন। ফলে প্রক্টরিয়াল বডি তাদের ‘করোনার কারণ দেখিয়ে’ অনুষ্ঠান না করার জন্য বলেন।’

হুযাইফা আরও বলেন, একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও তিনটি প্রোগ্রাম চলছিল। শুধু আমাদের প্রোগ্রাম বাতিল করতে বলেছিল প্রক্টরিয়াল বডি।

সাদ্দাম হোসেন এই অনুষ্ঠানকে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর আয়োজন বলেছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে হুযাইফা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাদ্দাম হোসেনকে রাষ্ট্রের সমস্ত মাধ্যম ব্যবহার করে প্রমাণ করতে বলেন, আমরা সাম্প্রদায়িক। তিনি বলেন, আমি গবেষণা করছি। আমরা যে তিনজন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি, তাদের সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকে চেনেন।’

ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ করা হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলেছেন সাদ্দাম হোসেন- জানালে হুযাইফা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটি ছাত্রলীগের পরিকল্পিত। আমরা কাজ শুরু করার আগে টিএসসির পরিচালক আকবর আমাদের জানান, সাদ্দাম ফোন দিয়ে এই প্রোগ্রাম করতে নিষেধ করেছে। তিনি আমাদের সাদ্দামের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে সাদ্দাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে দিয়েও অনুষ্ঠানটি না করতে চাপ প্রয়োগ করেন। তারপরও আমরা প্রোগ্রামটি করার চেষ্টা করি। সাদ্দাম হোসেন কোনোভাবে প্রোগ্রামটি বাতিল করতে না পেরে তার পোলাপানকে দিয়ে হামলা করান।’

হামলার সঙ্গে জড়িত এমন কাউকে চিহ্নিত করতে পেরেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘না, আমরা চিহ্নিত করতে পারিনি। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যান্ড সিলসিলা একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, সেখানে তারা কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন। ওইখান থেকে দেখে নিতে পারেন।’

সিলসিলার ফেসবুক পেজে ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘কাওয়ালদের সুরের মূর্ছনায় দর্শকরা যখন হারিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনই ছাত্রলীগের সাদ্দাম হোসেনের অনুসারীরা হঠাৎই স্টেজে উঠে অতর্কিতভাবে কাওয়াল ও দর্শকদের ওপরও হামলা চালায়‍। হামলাকারীদের মধ্যে আমীর হামজা, রনি হক, তানজির আরাফাত তুষার, সাব্বির হোসাইন শোভনসহ আরও অনেকেই ছিল‍।’ 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘এতে কয়েকজন দর্শক আহত হয়‍। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তাসফিয়া তাসনিম রাফা, দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম মুনা, ক্যাম্পাসের সাংবাদিক জালাল উদ্দিনসহ আরো অনেকেই‍ এতে আহত হয়। তারা আমাদের সাউন্ডবক্স, চেয়ার ও স্টেজ ভাঙচুর করে‍।’

কাওয়ালি আয়োজন করবে প্রগতিশীলরা, ‘মৌলবাদীদের’ করতে দেবে না ছাত্রলীগ: সাদ্দাম