পশ্চিমবঙ্গ বিজেপিতে বিভক্তি

গেল নির্বাচনে হারের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শিবিরে ভাঙন শুরু হয়েছে। দলটির তৃণমূল থেকে শুরু করে শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতাকেই দল বদলাতে দেখা গেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে রাজনৈতিক মতানৈক্যের বাইরে এবার সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) কার্যকর করা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপিতে বিভক্তি দেখা দিয়েছে।

এ আইন এখনো কার্যকর করতে পারেনি বিজেপি। এ আইন কার্যকর করার পক্ষে এবার যেমন দাবি তুলেছে বিজেপিরই সমর্থিত পশ্চিমবঙ্গের মতুয়া সংগঠনের একটি অংশ। আবার এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে মতুয়াদের আরেকটি সংগঠন। বিজেপির নেতৃত্বাধীন মতুয়া মহাসংঘের শীর্ষ নেতারা চাইছেন, অবিলম্বে এ আইন কার্যকর হোক। এই দলে রয়েছেন মতুয়া মহাসংঘের সভাপতি বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। আবার বিরোধিতায় রয়েছে মতুয়াদের আরেকটি সংগঠন। এর নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক তৃণমূল সাংসদ মমতা বালা ঠাকুর।

গত সোমবার বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর বলেছেন, তারা চান এ আইন অবিলম্বে কার্যকর করা হোক। এর জন্য তারা অনন্তকাল অপেক্ষা করতে চাইছেন না। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার তিনবার এ আইন কার্যকর করতে সময় নিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকায় তারা সন্তুষ্ট নন।

বিজেপির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি দিলীপ ঘোষ গতকাল বলেছেন, ‘বিজেপি আমলেই সব উদ্বাস্তু নাগরিকত্ব পাবে। আপনাদের আর কয়টা দিন অপেক্ষা করতে হবে। বিজেপিই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এই সিএএ কার্যকর করার জন্য।’ তিনি বলেন, মতুয়া সংগঠনের পাঁচ লাখ সক্রিয় সদস্য রয়েছেন। আর সাধারণ সদস্যের সংখ্যা ২০ লাখ।

গত রবিবার কলকাতার বিজেপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজেপির রাজ্যের প্রধান মুখপাত্র শমিক ভট্টাচার্য বলেছেন, ভারতে অবিলম্বে সিএএ কার্যকর করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিজেপি। বিজেপি মতুয়াদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে বলতে চাইছে, ২০২৪ সালের মধ্যে ভারতে সিএএ কার্যকর হবে। এটা বিজেপির মূল লক্ষ্য।

ভারতের বিতর্কিত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ এর আগে সংসদে পাস হলেও সেই আইন এখনো কার্যকর করতে পারেনি বিজেপি সরকার। তাদের প্রতিশ্রুতিমতো এ আইন কার্যকর করতে চাইলেও তা বিরোধীদের বাধার মুখে কার্যকর করতে পারেনি এখনো। যদিও বিজেপিবিরোধীরা দাবি করেছে, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে বিভাজনের রাজনীতি করার জন্য এ আইন এনেছে বিজেপি। কিন্তু বিজেপি এ আইন পাস করে যে কৌশল নিয়ে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের অস্ত্র তুলে নিয়েছিল, কার্যত তা এখনো সফল হয়নি। বিজেপির সেই কৌশলও কাজে লাগেনি।