শিক্ষার্থীরা কীভাবে লাঞ্ছিত করেছে জানতে চাইলে ডিকশনারি দেখতে বললেন শাবিপ্রবি ডিন

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও কর্মকর্তাদের লাঞ্ছনার অভিযোগ করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ অনুষদের ডিনেরা।

বুধবার এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ জানান তারা।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন- কৃষি ও খনিজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রোমেল আহমেদ, ফলিতবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম, জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. কামরুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম, ভৌত বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রাশেদ তালুকদার ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক দিলারা রহমান।

বিবৃতিতে লাঞ্ছনার কথা উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। তারা বলেন, বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় মাননীয় উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী লাঞ্ছিত হওয়ায় আমরা মর্মাহত।

তবে শিক্ষার্থীরা কখন, কোথায়, কীভাবে তাদের লাঞ্ছিত করেছেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে ভৌত বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘লাঞ্ছিত শব্দের ব্যাখ্যা ডিকশনারিতে দেখে নিন।’

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন ডিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, তারা লাঞ্ছিত বলতে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলাকে বুঝিয়েছেন। তবে, শিক্ষার্থীরা কখন, কোথায়, কীভাবে লাঞ্ছিত করেছেন এর কোনো উত্তর তিনি দিতে পারেননি।

এ দিকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার বেলা ১২টার দিকে তারা অনশনে বসেন।

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি ছাড়াও শিক্ষার্থীদের অন্য দাবিগুলো হল- শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগ, তাদের বিরুদ্ধে হওয়া হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার, ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকাল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল।

এর আগে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগ এনে মানববন্ধন করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কিছু শিক্ষক।

এ সময় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. লায়লা আশরাফুন বলেন, ‘আমরা সাধারণ শিক্ষক। আমরা সম্মানের জন্য কাজ করি এবং সম্মানের জন্যই এ পেশায় এসেছি। আমরা চাষাভুষা নই যে, আমাদের যা খুশি তাই বলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ রকম ভাষা কখনোই কাম্য হতে পারে না। তারা যে ভাষা ব্যবহার করছে তা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে।’

তবে শিক্ষকদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কিছু শিক্ষক এসব কথা বলছেন। অথচ তারা ভিসির কুরুচিপূর্ণ অডিও ক্লিপ নিয়ে কোনো মন্তব্য করছেন না। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য ১০/১৫ জন শিক্ষক মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন। আমাদের লজ্জা হচ্ছে- শিক্ষার্থীরা পুলিশের হাতে মার খেয়েছেন এ ব্যাপারে ওই শিক্ষকেরা কোনো কথাই বলেননি।’