খাবার-ঘুমে অনিয়ম, বিভিন্ন জায়গায় ফোন দিচ্ছেন শাবিপ্রবি উপাচার্য

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ হামলা চালিয়ে অবরুদ্ধ উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে মুক্ত করার পর থেকে তিনি নিজ বাসভবনে রয়েছেন।

দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষকের বরাত দিয়ে জানানো হয়, উপাচার্য রবিবার সন্ধ্যা থেকে নিজ বাসভবনে রয়েছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সমালোচনা ও সিসিটিভি ফুটেজে তাদের গতিবিধি লক্ষ করছেন। খাবার ও ঘুম অনিয়ম হচ্ছে, সারা দিন এখানে সেখানে ফোন করছেন তিনি।

আরও জানানো হয়, এই কয়েক দিনে উপাচার্য বাসায় বসে ঢাকায় থাকা আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষক নেতা, সিলেটের স্থানীয় কয়েকজন রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।

উপাচার্য ভবনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপাচার্যের সঙ্গে বাসায় তার স্ত্রী আছেন। বাবুর্চিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী আছেন। এ ছাড়া বাসভবনের আশপাশে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। তবে বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা তার সঙ্গে গিয়ে দেখা করছেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রশমিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে উপাচার্য তাদের নির্দেশনা দিচ্ছেন।

এর আগে গত রবিবার বেলা সোয়া তিনটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তিন দফার দাবিতে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখেন। ওই দিন বেলা সাড়ে পাঁচটার দিকে পুলিশ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে এবং শটগানের গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে উপাচার্যকে মুক্ত করে তার বাসভবনে নিয়ে যায়। সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপাচার্য তার বাসভবনে জরুরি সিন্ডিকেট বৈঠক ডাকেন। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ এবং পরের দিন সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণার পরপরই শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হন। উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে সেই থেকে লাগাতার আন্দোলন করে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার আমরণ অনশন কর্মসূচিতে বসেছেন তারা।

এর মধ্যে শিক্ষক সংগঠনের নেতা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের আলোচনার আহ্বান ফিরিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনরতরা। তারা জানিয়ে দিয়েছেন, উপাচার্যের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো আলোচনায় বসবেন না।