গত মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ীতে গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জেরে গতকাল বুধবারের সংঘর্ষে মোল্লা গোষ্ঠীর ইয়ারফিন (৩৫) নিহত হওয়ার পর ফকির পাড়া এখন জনশূন্য।
বুধবার সকাল থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে ফলাবিদ্ধ হয়ে শরিফুল ইসলাম ইয়ারফিন নিহত হন এবং আহত হন পুলিশসহ উভয় পক্ষের শতাধিক ব্যক্তি।
এ ঘটনার পর বাঘাবাড়ীর ফকিরপাড়ার প্রায় এক হাজার পরিবার তাদের আসবাবপত্র, গৃহসামগ্রী, ধানচাল, গরু-ছাগল, হাঁস মুরগি নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে ফিরছে।
এদের অনেকে পার্শ্ববর্তী চিনানারী, হাড়িয়া, মোনামারা, বহলবাড়ী, রাউতারা, চড়াচিথুলিয়া, সেলন্দাহ ও বড়পাথাইল হাট গ্রামে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
কয়েক দফা লুটপাটের পর ফের লুটপাট ও হামলা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায় বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ায় ফকিরপাড়া জনশূন্য হয়ে সুনসান অবস্থান বিরাজ করছে।
প্রামাণিক গোষ্ঠীর মিজানুর রহমান এবং আব্দুল লতিফ অভিযোগ করে বলেন, মোল্লা গোষ্ঠীর আমিরুল মোল্লা ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী ফকির গোষ্ঠী ও প্রামাণিক গোষ্ঠীর উপর দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার নির্যাতন ও নারী ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটিয়ে আসছে।
এরই জের ধরে গতকাল বুধবার ফকির গোষ্ঠী এবং প্রামাণিক গোষ্ঠীর উপর মোল্লা গোষ্ঠী হামলা করলে এবং তার প্রতিবাদে এই ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
তবে মোল্লা গোষ্ঠীর বাবু মোল্লা এবং খলিল মোল্লা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রামাণিক ও ফকির গোষ্ঠীর লোকেরা বিনা প্ররোচনায় আমাদের উপর অতর্কিতে হামলা ও বাড়িঘর লুটপাট করে এবং আমাদের গোষ্ঠীর ইয়ারফিন নামের একজনকে হত্যা করে।
এ ব্যাপারে শাহজাদপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিদ মাহমুদ খান বলেন, নিহত ইয়ারফিনের স্ত্রী রিতা খাতুন (৩০) ৯১ জনের নামে এবং অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করে বৃহস্পতিবার একটি মামলা দায়ের করেছেন।
শাহজাদপুর থানার ওসি তদন্ত মঈনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পুলিশের উপরও আক্রমণ চালায়।
এ সময় এসআই পিযুষ সাহা, এসআই ফারুক আহমেদ, এসআই আসাদুজ্জামান, কনস্টেবল ঝন্টু প্রামাণিক ও নিলয় হাসান আহত হয়।
ঘটনার দিন পুলিশ যে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে ২২ জন ব্যক্তি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না থাকার কথা জানান তাদের স্বজনরা। এদের আত্মীয়স্বজনরা থানায় ভিড় করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গোষ্ঠীগত দাঙ্গায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ বছর আগে মোল্লা গোষ্ঠীর উকিল মোল্লা, মোবারক মোল্লা ও প্রামাণিক গোষ্ঠীর সামাদ প্রামাণিক নিহত হয়। সর্বশেষ গত বুধবার নিহত হয় মোল্লা গোষ্ঠীর ইয়ারফিন।