শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আমরণ অনশনরত শিক্ষার্থীদের ৭ জন অসুস্থ হয়েছেন। এর মধ্যে কাজল দাস নামে এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চিকিৎসক জানিয়েছেন, কাজল দাসের শারীরিক কন্ডিশন যে অবস্থায়, তিনি যদি কোনো খাবার না নেন তবে অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক হয়ে দাঁড়াবে। তবে, কাজল দাস হাসপাতালে থেকেই অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এখন পর্যন্ত কোনো খাবার গ্রহণ করেননি।
বাকি ৬ জনকে অনশনস্থলে স্যালাইন দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার আমরণ অনশনের ২৭ ঘণ্টায় এসে এই ৭ জন অসুস্থ হন।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতিনিধি দল অনশনস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, ‘স্যার, উপাচার্য আসবেন যাবেন। শিক্ষক শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে থেকে যাবেন। উপাচার্যকে বাঁচাতে গিয়ে আপনাদের সঙ্গে যেন আমাদের সম্পর্কের কোনো অবনতি না হয়। আমরা উপাচার্যের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব। আপনারা আমাদের আন্দোলনে সংহতি জানান।
তবে, শিক্ষকেরা আন্দোলনে সংহতি জানাননি।
উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি ছাড়াও শিক্ষার্থীদের অন্য দাবিগুলো হলো- শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ‘ব্যর্থ’ প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগ, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হওয়া ‘হয়রানিমূলক’ মামলা প্রত্যাহার এবং ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকাল বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত বাতিল।
শাবিপ্রবির বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েকশ ছাত্রী।
শনিবার সন্ধ্যার দিকে ছাত্রলীগ হলের ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায়। পরের দিন বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন পুলিশ শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা ও তাদের লক্ষ্য করে শটগানের গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে।
ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার ঘোষণা দিলেও শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।