আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে এখনো স্বীকৃতি দেয়নি কোনো দেশ। তালেবান নেতারা বিভিন্ন দেশে তাদের প্রতিনিধি পাঠাচ্ছেন স্বীকৃতি আদায়ের জন্য। অবশ্য এখন পর্যন্ত কোনো দেশ স্বীকৃতি প্রশ্নে তালেবানের সঙ্গে কোনো আপস করেনি। কিন্তু এরই মধ্যে খবর এসেছে যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন খুব জলদিই আফগানিস্তানে তাদের দূতাবাস খুলছে। তালেবানের সঙ্গে শর্ত সাপেক্ষে এই দূতাবাস কার্যক্রম শুরু করার কথা বলা হলেও টোলো নিউজের প্রতিবেদনে তালেবানের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গোপন এক চুক্তির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তালেবানের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গোপন চুক্তির মানে, তালেবান নেতৃত্বাধীন আফগানিস্তানকে চীন ও পাকিস্তানের প্রভাব থেকে বের করতে চাইছে ইউরোপীয় নেতারা। সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল জানান, ইসলামিক এমিরেটের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা প্রয়োজন। কিন্তু এই সম্পর্ক শর্তসাপেক্ষে হওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বোরেল বলেন, ‘কাতারের সঙ্গে আমরাও একমত যে আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে কিছুক্ষেত্রে সম্পর্ক স্থাপন করা প্রয়োজন। কিন্তু এক্ষেত্রে তাদের কোনো বৈধতা দেওয়া যাবে না। এই সম্পর্ক হবে তালেবানের সঙ্গে শর্তসাপেক্ষে। গত সেপ্টেম্বরে তালেবানকে যে পাঁচটি মাইলফলক ঠিক করে দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর ভিত্তিতেই এই শর্ত হতে হবে।’ প্রসঙ্গত, গত ৩ সেপ্টেম্বর সেøাভেনিয়াতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মন্ত্রীরা এক বৈঠকে বসেছিলেন। সেই বৈঠক থেকেই ইসলামিক এমিরেটের জন্য পাঁচটি মাইলফলক প্রস্তুত করে দেয় তারা। সেখানে বলা হয়, আফগানিস্তান যে সন্ত্রাসবাদ রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, মানবাধিকার-বিশেষত নারী অধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে, অন্তর্ভুক্তি ও প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠন করতে হবে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবিক সহায়তাবিষয়ক প্রকল্পকে অনুমতি দিতে হবে, ঝুঁকিতে থাকা আফগান ও বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে হবে।
কিন্তু এসব শর্ত পালন ছাড়াই কাবুলে দূতাবাস খুলতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বলা হচ্ছে, মধ্য এশিয়াতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবেই এই দূতাবাস খোলা হচ্ছে। তবে এই দূতাবাস খোলার ক্ষেত্রে তালেবানের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কী চুক্তি হয়েছে তা খোলাসা করেননি জোসেপ বোরেল। জোসেপসহ অন্য ইউরোপীয় নেতাদের শুধু এখন আফগানিস্তানের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। এমনকি জাতিসংঘ প্রধানকেও একই ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে। অথচ কোনো পক্ষই এখন আর তালেবানদের অপশাসন ও সাম্প্রতিক মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রসঙ্গে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে না।