উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে ২৪ জন শিক্ষার্থী তাদের আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে ১৬ জন অনশনকারী হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
এদিকে গতকাল রাতে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেও কোনো কোনো সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।
রাতেই নতুন করে দেওয়া গণ অনশন কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছেন আরও তিনজন শিক্ষার্থী।
অনশনরত শিক্ষার্থীদের সেবায় গঠিত মেডিকেল টিমের ভলান্টিয়ার হিসেবে যুক্ত রয়েছেন সাকিব সাদমান নামের এক শিক্ষার্থী। হাসপাতালে অনশনরতদের শারীরিক অবস্থা দেখে তিনি আবেগ ধরে রাখতে পারছেন না।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে সাকিব সাদমান বলেন, ‘কিছুক্ষণ পরে অনশনের একশো ঘণ্টা পেরিয়ে যাবে। চোখের সামনে রাফি ভাই, সাকিব আর নিশাতদের শরীর খারাপ হতে দেখেছি। স্যালাইন দেওয়া ছাড়া কিছুই করতে পারছি না। দাবি না মানলে কেউ খাবার খাবে না। এখানে থাকা সবার হাত শুকিয়ে একটা কাঠের টুকরো মতো হয়ে যাচ্ছে। একজনের স্যালাইন দেওয়ার ভেইন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
‘নিশাতের শ্বাসকষ্টের সমস্যা, অনেক বেশি খিঁচুনি উঠলেও সে পানি খায় না। রায়ান ভাইয়ের শরীর থেকে তার কলিজা যে বড় সে ইতিমধ্যে তার প্রমাণ দিয়েছে। তাদের মধ্যে কাজলের অবস্থা এতই বাজে যে বারবার হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে তাকে কোনোভাবেই আটকে রাখা যাচ্ছে না। সে তার সহযোদ্ধাদের ছেড়ে যেতে চায় না।’
শাহরিয়ার একশো ঘণ্টা অনশনে বসেও অনেক কষ্ট করে প্রেস ব্রিফিং করছে। শরীরটা তার ভালো না তবে মনোবল অনেক।
রাফি ভাইকে স্যালাইন দিয়ে ভালো রাখা হচ্ছে। স্যালাইন ২ ঘণ্টার জন্য খোলা হইছিল স্বাস্থ্যের বাজেভাবে অবনতি হয়। রুবির কথা কি বলবো মেয়েটার নানু মারা যায় তাও সে অনশন ছেড়ে যায়নি।
‘কাল রাতের সিদ্ধান্ত নেওয়া গণ অনশনে নতুন করে হিয়া আপু, সামিরা আর শাফিনও অংশ নেয়। এই কয়দিন নিজের জীবন দিয়ে কাজ করছিল মানুষগুলো। আর আজ থেকে তারাও অনশনে।’
এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘অনশনরত শিক্ষার্থীরা যখন বাবা-মা সাথে কথা বলছিল তখন তাদের বাবা-মায়ের কান্না আমার কানেও আসছিল। একজনের বাবা তো হার্ট অ্যাটাক করে। কালকে কাফন মিছিলে যাইতে পারিনি অনশনের এখানে থাকার কারণে কিন্তু ছবি দেখে কান্না ধরে রাখতে পারিনি।
শাবি শিক্ষার্থী সাকিব বলেন, শিক্ষামন্ত্রী, প্রশাসন, শিক্ষক সমিতি কিছুই আমি বুঝি না। এতটুকুই বুঝে আমার ভাইবোনকে কাফনে মোড়াতে দিয়েন না। তাদের এই ন্যায্য দাবিতে তাদের পাশে থাকুন।