শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিন্দুমাত্র আত্মসম্মান বোধ থাকলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ সরে যেতেন বলে মনে করছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ।
রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশন বিষয়টি তুলে এমন মন্তব্য করেন সংসদের বিরোধীদলীয় এই প্রবীণ সদস্য।
অনশনরত শিক্ষার্থীদের অবস্থা তুলে ধরে ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘কিন্তু কারও টনক নড়ছে না। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আছেন, উনি ছাত্রদের বলছেন- তোমরা তোমাদের দাবি-দাওয়া রেখে ঢাকা আসো আমার সাথে আলোচনা করতে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই ছাত্র আন্দোলন করে আসছি। আন্দোলনের মাঠ ছেড়ে কখনো কোনো ছাত্ররা কারও সাথে দেখা করতে ঢাকা আসবে না- এটা আমরা জানি। মন্ত্রীর উচিত ছিল সেখানে ডাবল মাস্ক পরে যাওয়া।’
প্রবীণ এই রাজনীতিক বলেন, ‘ছাত্ররা কেন আসবে আপনার কাছে? প্রত্যেকটা ছাত্র আন্দোলন হয়েছে এ দেশে যৌক্তিকভাবে। যখনই যারা ক্ষমতায় থাকে, তারা সেই আন্দোলনকে অযৌক্তিক মনে করে।’
তিনি বলেন, ‘ভাইস চ্যান্সেলর এমন কোনো স্থায়ী পদ না যে, সে চলে গেলে ওই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাবে। যদি একজন ভাইস চ্যান্সেলরকে সরাতে গিয়ে ছাত্ররা অনশন করে, এর চেয়ে দুঃখজনক কিছু নেই।’
‘উনার যদি বিন্দুমাত্র আত্মসম্মান বোধ থাকতো তিনি অবশ্যই এখন থেকে সরে আসতেন। উনি জোর করে বসা আছেন পুলিশ গার্ড রেখে’ যোগ করেন ফিরোজ রশীদ।
এছাড়া পুলিশ ডেকে ছাত্রদের ওপর হামলা করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এটা আইয়ুব-মোনায়েম খানের যুগ না-কি যে, কথায় কথায় পুলিশ ডেকে আনবেন?’
গত ১৩ জানুয়ারি রাত থেকে শুরু প্রভোস্ট বিরোধী আন্দোলনে গত ১৬ জানুয়ারি পুলিশ লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ৩০ শিক্ষার্থীকে আহত করলে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি উঠে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আমরণ অনশনসহ আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা।