গণতন্ত্রপন্থী দুই নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিল মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার। ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সুচি’র ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি দলের এক সাবেক এমপি ও গণতন্ত্রপন্থী এক শীর্ষ নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে জান্তা সরকার।
সাবেক এমপি জেয়ার থাউ ও গণতন্ত্রপন্থী অ্যাকটিভিস্ট এবং রাজনৈতিক নেতা কিয়াউ মিন ইউকে মিয়ানমারের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বোমা হামলা ও সন্ত্রাসবাদে অর্থ যোগানের অভিযোগ আনে জান্তা সরকার।
জেয়ার থাউকে গত বছর নভেম্বরে এবং মিন ইউকে অক্টোবরে আটক করা হয়েছিল। ২০১৫ সালে সুচির দলের হয়ে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন জেয়ার থাউ। অন্যদিকে, ১৯৮৮ সালে মিয়ানমারে ছাত্র আন্দোলনের সময় ভূমিকা রেখে আলোচনায় আসেন মিন ইউ।
গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক বাহিনীর হাতে ক্ষমতা নিয়ে নিলে মিয়ানমার বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত হয়।
ওই সেনা অভ্যুত্থানের ফলে ব্যাপক বিক্ষোভ এবং নাগরিক অবাধ্যতা আন্দোলনের সূচনা হয়। এরপর ভিন্নমতের লোকদের ওপর সামরিক বাহিনীর হামলায় ১৫০০ জন নিহত হয় এবং হাজার হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ফিও জেয়ার থাও এবং কিয়াও মিন ইউ উভয়কেই আগের সামরিক শাসকরাও কারাগারে পাঠিয়েছিল। গত বছরের সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক কর্মী তারা। মিয়ানমারে গত কয়েক দশক ধরে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি।
মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চিও (৭৬) দেশের সরকারী গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘন সহ একাধিক অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন।
তাকে ইতিমধ্যেই অবৈধভাবে ওয়াকি-টকি আমদানি ও দখল, করোনভাইরাস নিয়ম লঙ্ঘন এবং সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উস্কানি দেয়ার অভিযোগে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।