অপারেশনের পরও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন রাতুল

অ্যাপেনডিসাইটিস অপারেশনের পরও অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী মাহিন শাহরিয়ার রাতুল।

রবিবার রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে সিলেটের একটি হাসপাতালে তার অপারেশন হয়। রাতুলের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে অনশনরত আরেক শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম বলেন, অস্ত্রোপচারের পরও মাহীন অনশন ভাঙেননি। অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে ১৯ জানুয়ারি বেলা ২টা ৫০ মিনিট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির ২৪ শিক্ষার্থী আমরণ অনশন শুরু করেন। তাদের একজন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহীন শাহরিয়ার।

আন্দোলনকারীরা জানান, প্রথম দিন থেকে অনশনে বসা রাতুল রবিবার রাতে পেটের ডান পাশে ব্যথা অনুভব করেন। এরপর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. নুরুল কাইয়ুম মোহাম্মদ মোরসালিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাতুলের পেটের ডান দিকে ব্যথা ছিল, জ্বর ছিল। বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমরা নিশ্চিত হলাম এটা অ্যাপেনডিসাইটিস। অ্যাপেনডিসাইটিস এর লাস্ট স্টেজ ছিল। অপারেশন না করালে ব্লাস্ট হয়ে যেতো। ব্লাস্ট হওয়ার আগ মুহূর্তে আমরা কেটে বের করছি। এখন তাকে স্টেপ ডাউন ইউনিটে (এসডিইউ) রাখা হয়েছে । এখন আশঙ্কা মুক্ত বলা যায়।

গত ১৩ জানুয়ারি রাত থেকে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনে ১৬ জানুয়ারি পুলিশি অ্যাকশনের পর উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি তোলেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার বিকেল ২টা ৫০ মিনিট থেকে ২৪ জন শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে বসেন। পরবর্তীতে একজন শিক্ষার্থীর বাবা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হলে তিনি বাড়ি চলে যান। পরে গতকাল শনিবার থেকে স্বেচ্ছা গণঅনশন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। রবিবার সকাল পর্যন্ত আরও ৪ শিক্ষার্থী অনশনে বসেছেন।

রবিবার রাতে উপাচার্যের বাসভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন আন্দোলনকারীরা। তারা ওই বাসভবনের সামনে মানব দেয়াল গড়ে তোলেন।