গণপিটুনিতে ৩ ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে তিন যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের মামলায় আসামি করা হয়েছে জুনায়েদ (১৩) নামে পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে। সে স্থানীয় ৯৬ নম্বর ইলমদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তবে মামলায় তার বয়স উল্লেখ করা হয়েছে ২৬।

জুনায়েদ স্থানীয় হাইজাদী ইউনিয়নের ইলমদী এলাকার মৃত ইব্রাহিমের ছেলে বলে জানা গেছে।

সোমবার (২৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে  মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। মানববন্ধনে জুনায়েদের মা সুমী আক্তার বলেন, আমার স্বামী ইব্রাহিমকে সাত মাস আগে হত্যা করা হয়েছে। স্বামীর হত্যা মামলা থেকে রেহাই পেতে আসামিরা তাদের সঙ্গে মিলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে আমার পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু জুনায়েদ ও আমার ভাশুর কাইয়ুমের নামে সাজানো হত্যা মামলা দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ওই রাতে তিন ব্যক্তিকে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে কে বা কারা রাতে হত্যা করেছে তা আমরা জানি না। আমরা সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘটনা শুনতে পারি। ঘটনাস্থলেও আমাদের পরিবারের কেউ যায়নি’।

ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন ভূঁইয়া (রাশেদ) বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কারো ক্ষতির উদ্দেশ্যে কেউ যদি মিথ্যা মামলা করেন আদালতে অথবা থানায়। তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। 

পিটিশন মামলার বিবাদী আবদুল কাইয়ুম বলেন, ২০২১ সালের ২৯ জুন তার ভাই চাল ব্যবসায়ী ইব্রাহিমকে ইলমদীর কান্দকাপাড়া এলাকার মোজাম্মেলের ছেলে এনামুলসহ আরো কয়েকজন মিলে হত্যা করে। এ ঘটনায় আড়াইহাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মামলাটি তুলে নিতে বিবাদীরা নানাভাবে আমাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। মামলাটি না তোলায় পরিকল্পিতভাবে একে-অপরের যোগসাজশে আমি এবং আমার ১৩ বছর বয়সী পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ভাতিজা জুনায়েদের বিরুদ্ধে আদালতে পিটিশন মামলা করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি সকাল ৫টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানাধীন বস্তুল এলাকার হাবিবুর রহমান হবুর ছেলে নিহত জহিরুল হক ওরফে জেসনো একই এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মফিজুল হোসেন ও আড়াইহাজার উপজেলার সেন্দী মাধবদী এলাকার মোসলেমের ছেলে নিহত নবী তাদের লেগুনা গাড়িতে করে শ্রমিক আনা-নেওয়া করতেন। ঘটনার দিন ইলমদী বাজারে গেলে মামলার ১ নম্বর আসামি স্থানীয় আপরদী এলাকার সমুর ছেলে মফিজউদ্দিন কৌশলে নিহত তিন ব্যক্তিকে ডেকে নিয়ে দুটি লেগুনায় তুলে মামলার পাঁচ আসামি মিলে হাতুড়িসহ বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরে তাদের ইলমদী বাগ নামক এলাকায় রাস্তার পাশে ফেলে ডাকাত বলে চিৎকার করেন।

শ্রমিকবাহী গাড়ি থেকে চিৎকার শুনে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্দেহভাজন তিন ডাকাতকে গণপিটুনি দেয়। পরে তারা তিনজনই মারা যায়। এই ঘটনায় আড়াইহাজার থানায় নিহত তিন ব্যক্তিসহ অজ্ঞাত আরো ১৪-১৫ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ করে একটি মামলা করেন ওই রাতে ডাকাতের হামলার শিকার গাড়ির চালক হানিফ নামে এক ব্যক্তি।

তিনি মামলায় উল্লেখ করেন, ওই রাতে ডাকাত দলের সদস্যরা শ্রমিকবাহী মিনিবাসের ভেতরে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে ৯ নারী-পুরুষ শ্রমিকের কাছ থেকে নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে। খবর পেয়ে এলাকাবাসী তাদের গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে।

অপরদিকে আড়াইহাজার থানার এসআই আব্দুর রহমান ঢালী বাদী হয়ে অজ্ঞাত ২০০-২৫০ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।