দক্ষিণ এশীয় পর্যায়ে বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা ট্র্যাকের আধিপত্য খুইয়েছে অনেকদিন হলো। এখন এই পর্যায়ে পদক অনেক বড় স্বপ্ন বাংলাদেশের স্প্রিন্টারদের জন্য। অথচ একটা সময় বাংলাদেশের স্প্রিন্টাররা সেরার লড়াইয়ে থাকতেন ভালোভাবেই। তবে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন তিন হাই জাম্পার। গত তিন বছরে নিজেদের প্রতিভার জানান দিয়েছেন মাহফুজুর রহমান, উম্মে হাফসা রুমকি ও ঋতু আক্তার। তাই তাদের জন্য অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন নিয়ে আসছে ভারতীয় কোচ। সবকিছু ঠিক থাকলে মার্চ থেকেই রুমকি-ঋতুদের নিয়ে কাজ শুরু করে দেবেন জি গাওঁকার। ভারতের কর্নাটকে জন্ম নেওয়া ৬৮ বছর বয়সী এই কোচকে আনা হচ্ছে ২০২৩ এসএ গেমসকে সামনে রেখে।
অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টু জানিয়েছেন, ‘গত ডিসেম্বরেই এই কোচের আসার কথা ছিল। ভিসাও করা হয়েছিল। তবে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় তা পিছিয়ে যায়। তাছাড়া আগামী মাসে কোচের মেয়ের বিয়ে। সেই আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে মার্চে আসবেন কোচ। তিনি এসে কাজ শুরু করার পর আমাদের জাম্পার ও স্থানীয় কোচদের কাছ থেকে তার সম্পর্কে ভালোভাবে জেনেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব কতদিনের জন্য তাকে নিয়োগ দেব।’ তিনি যোগ করেন, ‘উনি দীর্ঘদিন ধরে ভারতে হাই জাম্পারদের জন্য কাজ করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে হাইজাম্পে যারা ভালো করেছে ভারতে, তারা তারই ছাত্র। মূলত এসএ গেমসকে লক্ষ্য করে আমরা বিকেএসপিতে অচিরেই ক্যাম্প শুরু করছি। আপাতত আমরা নিজস্ব অর্থায়নে কোচকে আনব। তিনি আমাদের জন্য উপযুক্ত প্রমাণিত হলে আমরা বিওএ ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির জন্য আর্থিক সহায়তা চাইব।’
মূলত তিন জাম্পারের জন্য আনা হলেও এই কোচ খুব বেশিদিন কাজ করার সুযোগ পাবেন না মাহফুজকে নিয়ে। সম্প্রতি তিনি নির্বাচিত হয়েছেন অলিম্পিকের স্কলারশিপের জন্য। ফ্রান্সে গিয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়ার কথা কুষ্টিয়ার এই জাম্পারের। তবে ফ্রান্স যাওয়ার আগ পর্যন্ত ভারতীয় কোচের অধীনেই প্রস্তুতি নেবেন মাহফুজ। জাম্পের পাশাপাশি ট্র্যাকের জন্যও কোচের সন্ধানে আছে ফেডারেশন। একই সঙ্গে অ্যাথলেটদের থাইল্যান্ডে এশিয়ান অ্যাথলেটিক্সের ট্রেনিং ক্যাম্পে পাঠানোর পরিকল্পনাও আছে তাদের।