রাজবাড়ীর তিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই

রাজবাড়ীর কালুখালী, বালিয়াকান্দি ও পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। এ ছাড়া মেডিকেল অফিসার, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির জনবলেও রয়েছে সংকট। ফলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কার্যক্রম যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এ তিন উপজেলার বাসিন্দারা। এ অবস্থায় উপজেলাবাসীকে জেলা সদর হাসপাতালে গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বললেন জেলা সিভিল সার্জন।

রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া অঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ৫০ শয্যার কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল রয়েছে ৩১ শয্যার। হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট মেডিসিন, গাইনি, অ্যানেসথেসিয়া ও সার্জারিÑ এ চারটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদের সবগুলোই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এছাড়া একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও তিনজন মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও একজন মাত্র মেডিকেল অফিসার দিয়ে চলে হাসপাতালটির চিকিৎসা সেবা। পরিছন্নতা কর্মী ও অ্যাম্বুলেন্স চালকের পদও শূন্য। তাই কোনো রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাওয়া যায় না। এলাকাবাসীর অভিযোগে হাসপাতালে সেবা পাওয়া খুবই দুষ্কর।

সরেজমিনে দেখা যায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পলিথিন, কাগজের টুকরা আর ধুলাবালি জমে নোংরা হয়ে আছে। মেডিকেল ওয়ার্ডগুলোও ধুলাবালিতে ভর্র্তি। টয়লেটগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে আছে।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স আকলিমা খাতুন বলেন, ‘হাসপাতালে কোনো পরিছন্নতা কর্মী নেই, তাই এ অবস্থা হয়ে আছে। এছাড়া কোনো গার্ডও নেই। রাতের বেলা ডিউটি করতে ভয় করে।’ ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রাবেয়া বেগম বলেন, ‘দুর্গন্ধে বসে থাকা দায়। ডাক্তারও নেই। এখানে সরকার শুধু বিল্ডিং বানিয়েছে। কোনো চিকিৎসক দেয়নি।’

করোনার টিকা নিতে আসা পলাশ দাস বলেন, ‘সড়কের পাশে হাসপাতাল। জরুরি অনেক রোগী আসে। কিন্তু আসলেই রাজবাড়ী বা ফরিদপুরে পাঠিয়ে দেয়। এখানে চিকিৎসক খুবই জরুরি।’

একই অবস্থা বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে ১০টি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সবগুলো পদই শূন্য। এছাড়া তিনটি মেডিকেল অফিসারের পদও শূন্য। আধুনিক মানের অপারেশন থিয়েটার থাকলেও সেটি তালাবদ্ধ। সংকট রয়েছে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির জনবলে।

স্থানীয় সাংবাদিক সনজিৎ দাস বলেন, ‘একটু জটিল রোগী আসলেই তাদের ফরিদপুর পাঠানো হয়। একজন গরিব রোগীর পক্ষে দ্রুত ফরিদপুর যাওয়া অনেক ব্যয়বহুল ও কঠিন। তাই এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিলে উপজেলাবাসীর জন্য খুবই উপকার হয়।’

হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার অরুন্থিমা সোমা সাহা বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করি সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার। কিন্তু যে সেবাগুলো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিতে পারবে সেটি তো আমরা পারব না। এ জন্যই ফরিদপুর বা রাজবাড়ীতে পাঠাতে বাধ্য হই।’

পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মধ্যে নয়টি পদই শুন্য। জুনিয়র কনসালট্যান্ট গাইনি একজন থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে উপস্থিত থাকেন না। এছাড়া সংকট রয়েছে মেডিকেল অফিসারের।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন মো. ইব্রাহিম টিটন বলেন, ‘তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। এজন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তবে আমাদের মেডিকেল অফিসাররা সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ওইসব এলাকার বাসিন্দারা জেলা সদর হাসপাতালে এসে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।’