দীপিকা পাড়ুকোন হিন্দি সিনেমা শিল্পের অন্যতম প্রধান অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অনেক আগেই। বর্তমানে তিনি তার আসন্ন সিনেমা ‘গেহরাইয়া’র প্রচারে ব্যস্ত আছেন। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে সিনেমাটি অনলাইনে মুক্তি পাবে। সিনেমাটিতে কয়েকটি অন্তরঙ্গ দৃশ্য রয়েছে, যা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং অভিযোগ উঠেছে যে, অনলাইন দর্শককে যৌন সুড়সুড়ি দিয়ে সিনেমার টিআরপি বাড়ানোর জন্যই এসব দৃশ্য ধারন করা হয়েছে।
দীপিকা পাডুকোন এই অভিযোগ সম্পর্কে কথা বলেছেন ইটাইমসের সঙ্গে। অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, সিনেমার অন্তরঙ্গ দৃশ্যগুলো ‘সুড়সুড়ি দেওয়া বা দর্শকদের উত্তেজিত করার’ জন্য নয়।
গেহরাইয়া আধুনিক যুগের সম্পর্ক এবং অবিশ্বাসের ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ছবিতে, দীপিকা পাড়ুকোনের চরিত্র আলিশা এবং সিদ্ধান্ত চতুর্বেদীর চরিত্র জেইন তাদের নিজ নিজ জীবনসঙ্গীর সঙ্গে প্রতারণা করে অন্তরঙ্গ হয়েছে।
ইকোনমিক টাইমসের পক্ষ থেকে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আগে পর্দায় রোম্যান্স মানেই ফুল, মৌমাছি, বাগানে মধ্যে আলাপচারিতা, রোম্যান্স এসব দেখানো হত। কিন্তু বর্তমানে সেই বিষয়টা অনেকটাই খোলামেলা এবং সাহসী ভাবে দেখানো হয়। সেক্ষেত্রে অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে কতটা স্বাধীন মনে করেন তিনি?
এ বিষয় কোনও রাখঢাক না করে, সোজাসাপটা জবাব দেন নায়িকা। দীপিকা বলেন, তিনি এই পরিবর্তনকে কোনও বয়স, সময় বা লিঙ্গের সঙ্গে তুলনা করতে চান না। স্ক্রিপ্টের দাবিতে এই ধরনের দৃশ্য যদি স্বাভাবিকভাবে কখনও ছবিতে দেখানো হয়, সেক্ষেত্রে অভিনেত্রীর কোনও আপত্তির জায়গাই নেই। তিনি এটাকে টাইপকাস্ট হিসেবে ধরতে চান না। কারণ, নায়িকার কথায়, তার কখনই মনে হয়না, একজন কম বয়সী পরিচালক বা নারী পরিচালক ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের শ্যুটিং নিয়ে আলাদা ভাবনা রাখেন। তিনি মনে করেন, বিষয়টা এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির চিন্তাভাবনার উপর নির্ভর করে।
দীপিকা আরও বলেন, আমি ১০০ শতাংশ বলব যে, গেহরাইয়া’-এর মতো ছবি যদি শাকুন বাত্রার মতো পরিচালকের হাতে না থাকত তাহলে হয় আমি ছবিটিতে অভিনয় করতাম না আর নয়তো আমি যেভাবে মনপ্রাণ দিয়ে অভিনয় করেছি সেভাবে অভিনয় করেতে পারতাম না। পরিচালক যদি জোর প্রয়োগ করতেন যে, নির্দিষ্ট কিছু দৃশ্য বিশেষভাবে করতে হবে তাহলে সম্ভবত আমি এটি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতাম।
দীপিকা পাড়ুকোন বলেন, ছবিতে তিনি এমন অনেক কিছু করেছেন, যা তিনি শাকুন বাত্রার ওপর তার ‘স্বাচ্ছন্দ্য এবং বিশ্বাস’ এর উপর ভিত্তি করে করেছেন। দীপিকা বলেন, ‘ঘনিষ্ঠ দৃশ্যগুলো দর্শকদের উত্তেজিত করার জন্য বা সুড়সুড়ি দেওয়ার জন্য নয় বরং চরিত্রগুলো কী অনুভব করছে এবং ছবিটির জন্য কী প্রয়োজন তার একটি খুব খাঁটি জায়গা থেকে এসেছে। যদি ছবিটি অন্য কারও হাতে থাকত, তবে সব সম্ভাবনাতেই, আমি এটা করতাম না। আমি সম্ভবত কিছু জিনিস পেছনে ঠেলে দিতাম’।
গেহরাইয়ার একটি দৃশ্যের জন্য ৪৮ বার শুট করতে হয়েছে! একের পর এক টেক নিয়ে যাচ্ছিলেন পরিচালক। কিন্তু মন ভরে না। ৪৮ বারে এসে পরিচালক সন্তুষ্ঠ হন।
এমন খবরে অনেকই বলছেন, পরিচালকের ধারণাই ছিল না এমন দৃশ্য কীভাবে করতে হয়। তাই এতবার টেক নিতে হয়েছে।
তবে দীপিকা পাডুকোন বলছেন ভিন্ন কথা। তার মতে, দুই ধরনের পরিচালক হয়। প্রথমত, যারা পরিষ্কার বোঝেন, তারা কী চাইছেন। আরেক শ্রেণির পরিচালক নিজের কাজটা গুছিয়ে উঠতে পারেন না, তাদের চাওয়াটা অস্পষ্ট। এই সিনেমার পরিচালক সকুন বাত্রা জানেন, তিনি কী চান। আর অভিনেতাদের দিয়ে ঠিক সেটাই করিয়ে নেন। এবারও তেমনটাই হয়েছে। তিনি যেটা চান, ঠিক সেটাই করিয়ে নিয়েছেন। তাই ৪৮টি টেক নেওয়া হয়েছিল।
সিনেমাটি সম্পর্কে দীপিকার বক্তব্য, আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, ভারত এমন সিনেমা আগে কখনো দেখেনি। এই সিনেমাটি আমার হৃদয় ছুঁয়েছে।
মন বদল, সম্পর্কের বোঝাপড়া, বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচল নিয়ে গল্পের ভিত্তি। দীপিকা পাডুকোন নিজের বয়ফ্রেন্ড নিয়ে সুখী নয়। কিন্তু তার বোন নিজের বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে বেশ সুখী। এক সময় দেখা হয় চারজনের। সেই দেখা থেকে বদলে যেতে শুরু করে সম্পর্ক। বোনের বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে গড়ে ওঠে দীপিকার সম্পর্ক। কিন্তু এমন সম্পর্কের পরিণতি কী? এমন দ্বিধাদ্বন্দ্বের গল্প নিয়েই গেহরাইয়া সিনেমা।
গেহরাইয়াতে আরও অভিনয় করেছেন অনন্যা পাণ্ডে, সিদ্ধান্ত চতুর্বেদী এবং ধৈর্য কারওয়া। ছবিটি পরিচালনা করেছেন শাকুন বাত্রা। ছবিটির প্রচারেও দীপিকা এবং অনন্যা পাণ্ডে খুব বেশি খোলামেলা পোশাক পরে হাজির হয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।