চাঁদপুরে সরকার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের ঘটনায় অনিয়মের অভিযোগ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে শিক্ষামন্ত্রী হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমার পরিবারের কেউ এ অনিয়মে জড়িত নয়। আমার পরিবারকে জড়িয়ে অনিয়মের খবর ভিত্তিহীন, অসত্য, উদ্দেশ্য প্রণোদিত হতে পারে।
তিনি বলেন, এখানে দুর্নীতি তো হয়নি, কিন্তু ওনারা বলতে পারেন যে দুর্নীতির একটা অভিপ্রায় ছিল। জমির দাম বেশি বলা হয়েছে। আমাদের কোনো জমি সেখানে নেই, আমাদের কোনো মালিকানা নেই সেখানে। আমার ভাইয়ের যেটা ছিল সেটাও হস্তান্তর হয় গেছে আগেই। আমাদের কোনো অর্থনৈতিক স্বার্থ সেখানে নেই। আমাদের দিক থেকে দুর্নীতির কোনো প্রশ্ন সেখানে আসছে না। কিন্তু অন্য কেউ দুর্নীতি করেছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে।
তিনি বলেন, সেলিম খান আমার আত্মীয় না, জাহিদুল ইসলাম আমার মামাত ভাই না। আমাদের বাড়িটা আসলে অনেক বড়, অনেক আত্মীয়-স্বজন। ওর সঙ্গে আমার সম্পর্কটা রাজনৈতিক, এবং আমরা ঘনিষ্ঠ কোনো সন্দেহ নাই। সেলিম খানও আমার ঘনিষ্ঠ। এখানে কেউ যদি অনিয়ম-দুর্নীতি করে থাকে তার তদন্তের জন্য রাষ্ট্রীয় যথাযথ কর্তৃপক্ষ রয়েছে। আমি চাই এর তদন্ত হোক এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হোক।
তিনি বলেন, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম আগামী শিক্ষাবর্ষে শুরু হবে। উন্নয়ন কেউ থামিয়ে রাখতে পারবে না। হয়তো ষড়যন্ত্র করে আমার অবকাঠামো নির্মাণের কাজ কেউ থামিয়ে রাখতে পারবে। তবে চাঁদপুরের উন্নয়ন কেউ থামাতে পারবে না।
তিনি বলেন, চাঁদপুরে যখনই কোনো বড় প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হয় সেখানে একটি মহল সবসময়, ভেঙে যাবে, অনুপযুক্ত জায়গা এ রকম একটি ক্যাম্পেন শুরু করে।
মন্ত্রী দাবি করেন, প্রকাশিত রিপোর্টে এখানে আরোও কিছু মানুষকে আমার পরিবারের সদস্য বলা হয়েছে। তারা আমার রক্তের পরিবারের সদস্য নয়। কিন্তু তারা আমার রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। আমি জানি না আমার রক্তের পরিবারের সদস্যরা আমার জন্য কোনো ঝুঁকি নেবেন কি- না! কিন্তু আমার রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যরা আমার জন্য ঝুঁকি নেবেন।
চাঁদপুরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের এ বিষয়ে কোনো ইন্ধন আছে কী না এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, এখনই আমি কিছু এ বিষয়ে বলতে চাই না। দলীয় ফোরামে আমি এটি উত্থাপন করব। এখন আমি কিছু বলতে চাই না।
জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জমির মূল্য নির্ধারণ করেন জেলা প্রশাসক। এখানে ৬২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ১৩ জনকে একটি কমিটি করে প্রাক্কলন করা হয়। এর বাজার মূল্য ১৯৩ কোটি টাকা। এর আগে এর প্রাক্কলন ধরা হয়েছে ৫৫৩ কোটি টাকা। আমি মোটা দাগে যেটা বুঝি ১৯৩ কোটি টাকার ২০ গুন কখনোই ৫৫৩ কোটি টাকা নয়।
চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি ভাঙ্গনপ্রবণ জায়গা এখানে স্থাপনা টিকবে না এমন অভিযোগের বিষয়ে ছিল। তবে চাঁদপুর শহর ভাঙ্গনের কারণে অনেক ছোট। ও অনেক ঘনবসতি রয়েছে। আমরা জানি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো সমস্যা হলে হাইওয়ে বন্ধ হয়ে যায়। সেই বিবেচনায় আমরা জমিটি পছন্দ করি। এ ছাড়া আমরা কোথায় জমি পছন্দ করছি এর সঙ্গে প্রশাসনের লোকজনও জড়িত ছিলো বলে জানান তিনি।
এ সময় মন্ত্রী উল্লেখ করেন এই জমির সঙ্গে টেকসই বাঁধ রয়েছে। এ ছাড়া পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রও ছিল।
একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেখানকার সাড়ে ৬২ একর জমি মৌজা দরের চেয়ে ২০ গুণ বেশি দাম দেখিয়ে দলিল করে নিয়েছে প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠী।
সরকারের কাছ থেকে ৩৫৯ কোটি টাকা বাড়তি নেওয়ার এ কারসাজিতে জড়িত ব্যক্তিরা শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির ঘনিষ্ঠ বলে এলাকায় পরিচিত। এর মধ্যে তার নিকটাত্মীয়ও রয়েছেন। এই কাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছেন ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সেলিম খান। তিনি চাঁদপুরে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
প্রতিবেদনে বলা হয়, একক নামে সর্বোচ্চ জমি নিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির ভাই জাওয়াদুর রহিম ওয়াদুদ। তাঁর নামে দলিল হয় ৫৬৮ শতাংশ (৫.৬৮ একর) জমির। মন্ত্রীর মামাতো ভাই ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলামের নামে দলিল হয়েছে ১৬১ শতাংশ জমির। মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত চাঁদপুর সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলীর নামে কেনা হয় ৯৩ শতাংশ এবং মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (রাজনৈতিক) টুটুল মজুমদারের নামে ৩৭ শতাংশের দলিল হয়েছে।