পাওয়ার হিটিংয়ের এক দুর্দান্ত প্রদর্শনী করলেন রোভম্যান পাওয়েল। বুধবার বার্বাডোজে মুখোমুখি হওয়া দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে শুরু। ৫৩ বলে ১০৭ রানের ইনিংসে মেরেছেন ৯ ছক্কা আর ৪ বাউন্ডারি। তার এই অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ে ২২৪ রান তোলা উইন্ডিজ ২০ রানে তৃতীয় টি-২০ জিতে সিরিজে আবার এগিয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কিন্তু যেমনটা চেয়েছেন মোটেই তা করতে পারেননি পাওয়েল। ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে প্রায় ৬০ ইনিংস খেলেছেন। হাফসেঞ্চুরি করেছেন মাত্র ৬টি। গড় ২০-এর সামান্য বেশি। স্ট্রাইকরেট একশোর ওপর হলেও তাক লাগানোর মতো নয়। এমন পরিসংখ্যানের কেউ দল থেকে বাদ পড়লে মনে থাকার কথা নয়। বাংলাদেশে ২০১৮ সালে উইন্ডিজকে ওয়ানডে সিরিজে নেতৃত্ব দেওয়া পাওয়েল সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেলেছিলেন ঠিক এক বছর আগে চট্টগ্রামে। গত ডিসেম্বরে পাকিস্তান সফরে টি-২০তে আবার ডাক পেলেও তেমন সুবিধা করতে পারেননি বলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে একাদশে ছিলেন না। তৃতীয় ম্যাচে একজন ব্যাটসম্যান বেশি খেলানোর সিদ্ধান্তে সুযোগ হয় তার। এবং এবার পাওয়া সুযোগ দুর্দান্ত এক ইনিংসে কাজে লাগালেন ২৮ বছর বয়সী জ্যামাইকান।
পাওয়েল কিন্তু জানতেন এক দিন দেখিয়ে দিতে হবে। কারণ অনেক ক্ষোভ, প্রতারণা, অভাবের সঙ্গে লড়াই করে স্রেফ ভালোবাসার জন্য এতদূরে এসেছেন তিনি। অভিমানে রাগে বাবার সঙ্গে দেখা করেন না। বাবাই তার মা জোয়ানকে গর্ভপাতের পরামর্শ দিয়েছিলেন। মা শোনেননি। বাবা ছেড়ে চলে যান। তারপর বোনকে নিয়ে ভাই পাওয়েল আর মায়ের সংগ্রাম শুরু। কেনিংসটন ওভালে যে আগুনে ব্যাটিং করেছেন পাওয়েল তার শক্তির মূল উৎস তার মা। ক্রিস গেইল ও এভিন লুইসের পর তৃতীয় ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান হিসেবে টি-২০তে সেঞ্চুরিটি করেন তিনি ৫১ বলে। নিকোলাস পুরানকে নিয়ে ইংলিশ বোলারদের কচুকাটা করেছেন। ৫.২ ওভারে শেই হোপ আউট হওয়ার পর নামেন পাওয়েল। তখন ৩২ রানে অপরাজিত পুরান। নেমে দৃশ্যপট পাল্টে দেন পাওয়েল। ৯.১ ওভারেই পুরানকে ছাড়িয়ে যান। এরপর চার-ছক্কার বৃষ্টি। ইনিংসের ১৭তম ওভারে ৪৩ বলে ৭০ রান করে পুরান আউট হন ১১ ওভারে ১২২ রানের জুটি গড়ে। ৩১ বলে ফিফটি করা পাওয়ালে পরবর্তী ৫০ করেছেন ২০ বলে। সেঞ্চুরির পরের বলে ছক্কা মেরে তার পরের বলেই আউট হন রিস টপলির বলে।
প্রথম ম্যাচে ১০৩, দ্বিতীয় ম্যাচে ১৭১ রান করা ইংল্যান্ড ২২৫ টার্গেটের পেছনে ছুটেছিল ভালোই। ১১ ওভারে ৩ উইকেটে ১০৭ রান তুলে নেয় তারা টম ব্যান্টনের ৩৯ বলে ৭৩ রানের ওপর ভর করে। ফিল সল্ট সম্ভাবনাটা জাগিয়ে রাখলেও ১৯তম ওভারে ২ উইকেটের বিপরীতে ৩ রান তুললে সম্ভাবনাটা শেষ হয়ে যায়। শেষ ওভারে ৩৮ রানের প্রয়োজন নিয়ে শুরু করা সল্ট রোমারিও শেফার্ডের করা ওয়াইড থেকে ২ রান বাই নিলে ৬ বলে ৩৬ রানের প্রয়োজন পড়ে। সল্ট দুই ছক্কা মেরে উত্তেজনা জিইয়ে রাখলেও শেষ পর্যন্ত আর হয়নি। তৃতীয় বলে বোল্ড হয়ে ২৪ বলে ৫৭ করা তিনি যখন থামলেন ইংল্যান্ডের স্বপ্নও থেমে গেল।