প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা সমালোচনাকারীর চরিত্র হননের অপকৌশলে লিপ্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে সুজন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।
শনিবার সাড়ে ১১টায় সুজন সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, ‘সিইসি নূরুল হুদার মিথ্যাচারে আমরা স্তম্ভিত।’
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “সিইসি হুদার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগের আরেকটি কারণ হলো যে, তিনি এবং তার সহকর্মীরা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের ভোটাধিকার হরণ করেই ক্ষান্ত হননি, তারা আমাদের ভবিষ্যতের নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যে একটি ‘ট্রোজান হর্স’ও রেখে যাচ্ছেন।”
‘এই ট্রোজান হর্সটি হলো- ইভিএম নামে পেপার ট্রেইল বিহীন একটি নিম্নমানের যন্ত্র, যা দিয়ে ডিজিটাল জালিয়াতি করা যায় এবং টেকনিক্যাল উপদেষ্টা কমিটির প্রধান হিসেবে প্রয়াত জামিলুর রেজা চৌধুরী যেটি কেনার সুপারিশে স্বাক্ষর করেননি” যোগ করেন রিজওয়ানা হাসান।
তিনি বলেন, গত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে ডিজিটাল জালিয়াতি করা হয়েছিল দুইবার ভোটের ফলাফল প্রকাশ করার মাধ্যমে। অন্যান্য দেশ, এমনকি তথ্য-প্রযুক্তিতে উন্নত দেশও যখন ইভিএম ব্যবহার থেকে সরে আসছে, তখন এ ভয়াবহ যন্ত্র ব্যবহারে সিইসি হুদার অতি উৎসাহ এবং রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য ছাড়া ইভিএম ব্যবহার না করার অঙ্গীকার থেকে সরে আসা লক্ষণীয় ও প্রণিধানযোগ্য।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘রাতের ভোট’ প্রসঙ্গে নূরুল হুদা বলেছেন, মধ্য রাতের ভোট তিনি দেখেননি, তবে এ ব্যাপারে অভিযোগ উঠেছে কিন্তু তদন্ত হয়নি। আর এ তদন্ত না করে তিনি তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন, যার মূল কারণ তার পক্ষপাতদুষ্টতা।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত ২৭ জানুয়ারি সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) আয়োজিত ‘আরএফইডি টক উইথ কে এম নুরুল হুদা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের বিরুদ্ধে ১ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগসহ কিছু কুরুচিপূর্ণ, অশালীন, অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন। দেশের মর্যাদাপূর্ণ একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদে বসে তাকে এমন মিথ্যাচার করতে দেখে আমরা হতবাক।
এতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ড. বদিউল আলম মজুমদারের ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেনের কোনো সম্পর্ক নেই এবং কোনোদিন ছিলও না। তিনি কমিশন থেকে কখনো কোনো কাজ নেননি, অসমাপ্ত রাখার তো কোনো প্রশ্নই আসে না।
‘তার কাছে এ সম্পর্কে কোনোরূপ তথ্য থাকলে তিনি কেন তা প্রকাশ করলেন না? কেন অভিযোগটি তদন্ত করলেন না? দুর্নীতি দমন কমিশনেই বা কেন তা পাঠালেন না?’ সিইসির কাছে প্রশ্ন সুজনের।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, একটি বিতর্কিত নির্বাচনের অকাট্য কিছু প্রমাণ ও তথ্য প্রকাশ করায় সুজন ও ড. বদিউল আলম মজুমদারের ওপর কে এম নুরুল হুদার ক্ষিপ্ত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
‘তাছাড়া, ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে বৈশাখী টেলিভিশনের ৮ পর্বের একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৪২ জন নাগরিক সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠন করে নূরুল হুদা কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করার যে আবেদন করেন, তাতে ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ সুজন-এর অনেক নেতারা ছিলেন স্বাক্ষরকারী। আর এ জন্যই সিইসি হুদার গাত্রদাহ এবং তার অপকর্ম ও পক্ষপাতদুষ্টতার কলঙ্ক আড়াল করতেই—যে কলঙ্ক বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে—তিনি আমাদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন’ বলা হয় লিখিত বক্তব্যে।