সুন্দরবনে বাঘটির স্বাভাবিক মৃত্যু

সুন্দরবনের গহীনের খালেরচর থেকে উদ্ধার মৃত রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ অফিসে ময়নাতদন্ত করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তোফাজ্জেল হোসেন।

পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে বাঘের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো ঢাকার পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বার্ধক্যের কারণে বাঘটির মৃত্যু হয়েছে।’

গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলারচর এলাকার রুপার খালেরচর থেকে মৃত বাঘটি উদ্ধার করেন বনরক্ষীরা। গতকাল ময়নাতদন্ত শেষে বাঘটিকে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শামসুল আরেফিন জানান, বনকর্মীরা সুন্দরবন থেকে বাঘটির মৃতদেহ গতকাল শরণখোলা রেঞ্জ অফিসে নিয়ে আসেন। সেখানে মেপে দেওয়া যায় বাঘটির দৈর্ঘ্য ৯ ফুট, উচ্চতা ৩ ফুট ২ ইঞ্চি। শরীরে কোথাও আঘাতের চিহ্ন নেই। পুরুষ বাঘটির বয়স আনুমানিক ১৬-১৭ বছর।

২০১৯ সালের ২০ আগস্ট সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ছাপড়াখালীর বন থেকে একটি এবং ২০২০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি একই রেঞ্জের কোকিলমণি টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন কবরখালি খালেরচর থেকে আরেকটি মৃত বাঘ উদ্ধার করে বন বিভাগ।

এদিকে নাটোর সদর উপজেলার কৈগাড়ি এলাকায় গত শুক্রবার রাতে একটি মেছো বাঘকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে গতকাল বন বিভাগ মৃত বাঘটি উদ্ধার করে রাজশাহী বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে।

স্থানীয়রা জানান, কৈগাড়ি এলাকার মিরাজ আলীর হাঁসের খামারে শুক্রবার রাতে মেছো বাঘটি আক্রমণ করে। এ সময় খামার মালিকসহ স্থানীয়রা বাঘটিকে ধরে পিটিয়ে মেরে ফেলেন। খবর পেয়ে গতকাল সকালে নাটোর বন বিভাগের কর্মচারী রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে মৃত বাঘটি উদ্ধার করেন।