জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) স্নাতক প্রথম বর্ষে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীন সাত বিভাগে নিয়ম ভেঙে আট শিক্ষার্থী ভর্তির ঘটনায় পদত্যাগ করেছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান আসিফ ইকবাল আরিফ।
গতকাল রবিবার অনুষদের ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা কমিটির সভায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে বক্তব্য রেখে পদত্যাগ করেন তিনি। পরে সভায় নেওয়া এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের রেজল্যুশনেও তিনি স্বাক্ষর করেননি বলে জানা গেছে।
আসিফ ইকবাল ওই ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা কমিটি সদস্য ছিলেন। তবে অনুষদের ডিন এখনো তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি।
আসিফ ইকবাল বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে আগ্রহী নই। অনুগ্রহ করে কেউ কিছু জিজ্ঞেস করবেন না।’ তবে তিনি দাবি করেন, ‘নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নিতে সভা শুরুর আগেই স্বাক্ষর নেওয়া হয়। আমি ৮ শিক্ষার্থীর ভর্তির সময়কার সিদ্ধান্তের বিষয়ে কথা বলতে চাইলেও তা গ্রহণ করেননি।’
এ বিষয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম এবং ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক আজিজুর রহমানকে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করা হয়নি।
সামজিক বিজ্ঞান অনুষদে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয় গত ৫ জানুয়ারি। এতে প্রথম মেধা তালিকার ১ থেকে ২৪৮ (বিজ্ঞান শাখা), ১ থেকে ৩৫০ (মানবিক শাখা) ও ১ থেকে ১০২ জন (ব্যবসায় শিক্ষা শাখা) ডাক পান। আসন শূন্য থাকায় দ্বিতীয় মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে বিজ্ঞানের ২৪৯ থেকে ৬২৫, মানবিকের ৩৫১ থেকে ৮৫০ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ১০৩ থেকে ২২০ পর্যন্ত ডাকা হয়।
ভর্তির নির্দেশনা অনুযায়ী সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ৩৫০টি আসনের বিপরীতে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা এবং মানবিক থেকে যথাক্রমে ১২৪, ৫১ ও ১৭৫ শিক্ষার্থী ভর্তির কথা। কিন্তু ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা কমিটি এ নিয়ম না মেনে বিজ্ঞান অনুষদের বিভাগগুলোতে ব্যবসায় শাখা থেকে ৫১ জনের বদলে ৪৩ জন ভর্তি করে। এ হিসাবে ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে আরও ৮ শিক্ষার্থী ভর্তির নিয়ম থাকলেও তা উপেক্ষা করে মানবিক এবং বিজ্ঞান শাখা থেকে ৮ জনকে ভর্তি করে, যা গত শনিবার দৈনিক দেশ রূপান্তরে ‘নিয়ম ভেঙে ৮ শিক্ষার্থী ভর্তি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।