শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ‘বেহায়াপনা-নোংরামির’ অভিযোগে স্মারকলিপি দিল কারা!

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ‘বেহায়াপনা-নোংরামির’ অভিযোগ তুলে উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ স্মারকলিপি পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করলেও কারা দিয়েছে এ স্মারকলিপি তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।

রবিবার নগরীর আখালিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত উপাচার্য বরাবর লিখিত ওই স্মারকলিপি দেশ রূপান্তরের হাতে এসেছে। এতে আরো কয়েকজনের নাম ও স্বাক্ষর যুক্ত রয়েছে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ওলির নামে, এখানে ছাত্র-ছাত্রীদের অবাধ চলাফেরা ও ‘অবৈধ’ মেলামেশা মেনে নেয়া হবে না। ছাত্র-ছাত্রীদের এসব ‘অবৈধ’ কর্মকাণ্ড দমনে উপচার্য কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়লে স্থানীয়রা ‘কাফনের কাপড় পরে’ তার পাশে থাকবেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘শাবিপ্রবি আমাদের পূর্বপুরুষের সম্পত্তির ওপরে একজন ওলির নামে প্রতিষ্ঠিত। বিশ্ববিদ্যালয়টি আমাদের গর্ব এবং এর সঙ্গে আমাদের আত্মার সম্পর্ক। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, একজন মহান ওলির নামের বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসে সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ছেলে-মেয়েরা টিলার ওপরে, সেন্ট্রাল অডিটরিয়ামের আশেপাশে এবং পুরো ক্যাম্পাসজুড়েই আপত্তিকর ও অনৈতিকভাবে ছাত্র-ছাত্রীরা চলাফেরা এবং অবাধ মেলামেশা করেন। বিষয়টি কোনো সুস্থ ও বিবেকমান মানুষ মেনে নিতে পারে না’।

এতে আরো বলা হয়, ‘ছাত্র-ছাত্রীদের অসংলগ্ন চলফেরা ও আচরণে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও আশেপাশে চলাফেরা করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের এ ধরনের কাজে আমরা এলাকাবাসী ধিক্কার জানাচ্ছি। এমন কর্মকাণ্ডে মহান ওলি নামকে কলুষিত করাসহ আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটের মানুষের অনুভূতিতিতে আঘাত করা হচ্ছে। সিলেটের মানুষ এমন কর্মকাণ্ড বেশিদিন চলতে দেবে না। প্রয়োজনে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে’।

স্মারকলিপির মাধ্যমে শাবি উপাচার্যকে এমন কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আলমগীর কবির এ স্মারকলিপির তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী কয়েকজন বাসিন্দা এ স্মারকলিপি দিয়েছেন।

তবে স্বাক্ষরকারী মো. আনোয়ার হোসেন এ ধরনের কোনো স্মারকলিপি লেখা বা জমা দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন।

জানতে চাইলে প্রথমে স্মারকলিপির বিষয়টি বুঝতে সময় নেন।  তারপর বলেন, না না না, আমরা সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষ। এগুলো আমাদের কাজ না।  

বিস্তারিত বুঝিয়ে বললে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্মারলিপিতে উল্লেখিত অভিযোগ অবমাননাকর। বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে অজ্ঞতা থেকে কেউ এ ধরনের অভিযোগ করতে পারে। বর্তমান উপাচার্যকে টিকিয়ে রাখার একটা কৌশল হতে পারে এ ধরনের স্মারকলিপি।