টঙ্গীতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ৩ কারখানা ছুটি ঘোষণা

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীর বিসিক এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ শ্রমিক ও পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষ ঘটে।

পরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৩টি পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) মোহাম্মদ ইলতুৎমিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আহত শ্রমিকেরা হলেন- শাহিনুর আক্তার (১৮), নুর মোহাম্মদ (২৫), তাসলিমা (২৬), জিয়া (২৫), মনিরুল (২৪), সাফিনা আক্তার (১৮), মুক্তি আক্তার (৩২), কামাল (২৩)। এদের মধ্যে মুক্তি ও কামালকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি পাঠিয়ে দিলেও বাকিদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শ্রমিকেরা জানায়, গত শনিবার (২৯ জানুয়ারি) টিভলি অ্যাপারেলস লি. এর ফিনিশিং সেকশনের ফিনিশিং সহকারী রিপা আক্তারকে লাঞ্ছিত করে কারখানার পঞ্চম তলার উৎপাদন ব্যবস্থাপক লুৎফর রহমান।

এ সময় রিপাকে ধাক্কা দিয়ে কারখানা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন লুৎফর।

বিষয়টি কারখানার অন্য শ্রমিকদের মধ্যে জানাজানি হলে ওই দিনই বিচারের দাবিতে শ্রমিকেরা উৎপাদন কাজ বন্ধ করে কর্মবিরতি পালন করেন।

পরে শ্রমিকেরা ১২টি দাবি উল্লেখ করে মালিক পক্ষের কাছে একটি দাবিনামা উপস্থাপন করেন।

সোমবার শ্রমিকেরা উৎপাদন কাজে যোগ না দিয়ে বাসায় চলে যান। পরে মালিক কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার সকাল থেকে (নো ওয়ার্ক, নো-পে) অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানাটি বন্ধ ঘোষণার নোটিশ ফ্যাক্টরির সামনে টানিয়ে দেয়।

মঙ্গলবার সকাল ৮টায় শ্রমিকেরা কারখানার সামনে এসে বন্ধের নোটিশ দেখে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা পাশের রেডিসন গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানার সামনে এসে শ্রমিকদের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন।

পুলিশ বাধা দিলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন।

এ সময় পুলিশ গ্যাসগান ও শটগানের গুলি নিক্ষেপ করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেন। পরে শ্রমিকেরা সুমি অ্যাপারেলস লিমিটেড, আর বি এস আর ফ্যাশন লিমিটেড এবং বিসিক ফকির মার্কেটে জড়ো হয়ে পুলিশের উপর ত্রিমুখী হামলা চালায়।

পরে পুলিশ ৩০ রাউন্ড শটগানের গুলি, ১০ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ও ৬ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

শ্রমিকেরা যাওয়ার পথে পেট্রিয়ট ইকো লিমিটেড কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালায়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের দাবির প্রেক্ষিতে মালিকপক্ষ, সুমি অ্যাপারেলস লিমিটেড, আর বি এস আর ফ্যাশন লিমিটেড ও রেডিসন অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানা ছুটি ঘোষণা করে।

টিভলী অ্যাপারেলস লিমিটেডের মালিক মোশারফ হোসেন বলেন, শ্রমিকের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে ঘটনার দিনই উৎপাদন ব্যবস্থাপককে অপসারণ করা হয়েছে। কিন্তু শ্রমিক তা সত্ত্বেও কিছু অযৌক্তিক দাবি পেশ করেন যা শ্রম আইনের পরিপন্থী।

তিনি বলেন, শ্রমিকেরা উৎপাদন ব্যবস্থাপকের অপসারণ চেয়েছে আমরা মেনে নিয়েছি। কিন্তু বহিরাগত কিছু শ্রমিক নেতা সাধারণ শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তাই বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে। বিজিএমইএর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) মোহাম্মদ ইলতুৎমিশ জানান, টিভলি অ্যাপারেলসের শ্রমিকেরা উত্তেজিত হয়ে অন্যান্য কারখানাগুলোতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর চালায়। এতে বাধা দিলে পুলিশের ওপরও ইটপাটকেল ছুড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিল্প পুলিশ ও মেট্রোপলিটন পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়েছে।

এ ঘটনায় পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।