কভিড বিধিতে বাধা পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা এক সাংবাদিক সম্প্রতি নিজ দেশ নিউজিল্যান্ডে ফিরতে পারেননি। নিরুপায় ওই নারী সর্বশেষ কর্মস্থল আফগানিস্তানে আশ্রয় নেন।
এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর আলজাজিরার সাবেক সাংবাদিক শার্লট বেলিসকে দেশে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে নিউজিল্যান্ড। মঙ্গলবার দেশটির সরকার জানায়, তারা শার্লটের জন্য কোয়ারেন্টাইন ও ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে।
নিউজিল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী গ্রান্ট রবার্টসন এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শার্লট বেলিসের কোয়েরেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমি তাকে এ সুবিধা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করছি।
তবে সমালোচনার কারণে এ পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। বরং তার কর্মীরা দ্রুত সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।
এর আগে শনিবার নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডে লেখা একটি কলামে নিজের সমস্যার কথা জানান শার্লট। ওই লেখায় নারীদের অধিকার নিয়ে নিজ দেশের সঙ্গে আফগানিস্তানের অবস্থার তুলনা করে বলেন, তালেবানরা তাকে আহ্বান জানিয়ে বলেছিল, ‘লোকজনকে কেবল জানাবেন আপনি বিবাহিত। এরপরও যদি কোনো অসুবিধা হয়, আমাদের ডাকবেন। দুশ্চিন্তার কিছু নেই।’
৩৫ বছর বয়সী শার্লট বেলিস ও তার বেলজিয়ান সঙ্গী জিম হলবরেকের প্রথম সন্তান এটি। পেশায় ফ্রিল্যান্স চিত্রগ্রাহক জিম নিজেও দুই বছর আফগানিস্তানে থেকেছেন।
যদিও শার্লট বেলিসকে আফগানিস্তানে প্রবেশে অনুমতি দেওয়ার ঘটনা তার সঙ্গে তালেবানদের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
আফগানিস্তানে টিকে থাকতে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের কত কঠিন সমস্যা মোকাবিলা করতে হয় তা নিয়ে প্রতিবেদন করতেন তিনি।
শার্লট কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার আফগানিস্তানের প্রতিবেদক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। কাতারের আইন অনুযায়ী অবিবাহিত অবস্থায় সন্তানধারণ নিষিদ্ধ হওয়ায় গত নভেম্বরে তিনি আলজাজিরা থেকে ইস্তফা দেন।
এরপর শার্লট বেলিস বেলজিয়াম যান এবং সেখানে বসবাসের আবেদনের চেষ্টা করেন। কিন্তু আবেদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে তত দিনে তার ভ্রমণ ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যেতো বলে জানান।
তিনি বলেন, ‘তিনি চাইলে এক দেশ থেকে আরেক দেশে ভ্রমণ ভিসা নিয়ে ঘুরতে পারতেন। কিন্তু নিউজিল্যান্ডে ফেরার চেষ্টা করতে করতে হোটেলে থেকে টাকা তো খরচ হতোই তার ওপর কোনো অবলম্বন বা স্বাস্থ্য সুবিধাও থাকত না।’
শেষমেশ আগে থেকে ভিসা থাকায় শার্লট ও জিম আফগানিস্তানে ফিরে আসেন। সেখান থেকেই দেশে ফেরার চেষ্টা করতে শুরু করেন।