চোখ রাখুন ছয় তরুণে

দুয়ারে কড়া নাড়ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ। লিগের আগে সবার নজর থাকে নামিদামি দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়ে। তাদের পারফরম্যান্সে ভর করেই দলগুলো স্বপ্ন দেখে সাফল্য ছোঁয়ার। এবারের ১২টি দল চেষ্টা করেছে প্রতিষ্ঠিত স্থানীয় ফুটবলার দলে নিতে। এর সঙ্গে ভালোমানের বিদেশি এনে ঘাটতি পোষানোর চেষ্টা করেছে। তবে এই নামিদামিদের ভিড়েও বেশ কজন উঠতি খেলোয়াড় এর মধ্যেই নজর কেড়েছেন। পেশাদার লিগের দ্বিতীয় স্তর বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ, ফেডারেশন কাপ ও স্বাধীনতা কাপে ভালো পারফরম্যান্সের সুবাদে নিজ নিজ দলের মূল একাদশে নিয়মিত হয়েছেন অনেকে। বিভিন্ন দলের কোচ-কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এদের মধ্য থেকে ছয়জন তরুণকে আলাদা করে বেছে নিয়েছে দেশ রূপান্তর; যাদের মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যৎ জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করার সব উপাদান।

সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের আঙিনায় ঘোরাফেরা মারাজ হোসেনের বেশ কয়েক বছর হলো। বিকেএসপির সাবেক ছাত্র ২০১৭ সালে সাফে আসার পরের বছরই ডাক পান মূল দলে। তবে সেভাবে খেলার সুযোগ মিলছিল না। চলতি মৌসুমে তাকে সেই সুযোগ দেন আর্জেন্টাইন কোচ ডিয়েগো ক্রুসিয়ানি, যা ভালোভাবেই কাজে লাগান অনূর্ধ্ব-১৯ ও সর্বশেষ অনূর্ধ্ব-২৩ দলে খেলা মারাজ। ফেডারেশন কাপে করেন ২ গোল। এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার সম্পর্কে রহমতগঞ্জ ক্লাবের কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানীর পর্যবেক্ষণ, ‘ওর ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিপক্ষের রক্ষণে ফাটল ধরানোর ক্ষমতা আছে। আর আছে গোল করার ক্ষুধা। নিজেকে ধরে রাখতে পারলে অচিরেই জাতীয় দলের দরজা খুলে যাবে তার সামনে।’ জিলানী ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তার দলের তরুণ লেফট উইঙ্গার এনামুল ইসলাম গাজীরও। রহমতগঞ্জে এটা এনামুলের তৃতীয় মৌসুম। যশোরের সামসুজ্জোহা ফুটবল একাডেমির হয়ে ২০১০ সালে ডানোন নেশন কাপ খেলতে যান দক্ষিণ আফ্রিকায়। পরবর্তীতে চ্যাম্পিয়নশিপে নিয়মিত খেলে তিন মৌসুম আগে সুযোগ পান রহমতগঞ্জে। এ বছর রহমতগঞ্জকে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে তুলতে তার অবদান ছিল অনেক।

বিপিএলে নবাগত স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘ বেশ কজন তরুণ নিয়ে গড়েছে মাঝারি মানের দল। এদের মধ্যে আলাদাভাবে নজর কেড়েছেন স্ট্রাইকার জিল্লুর রহমান ও হোল্ডিং মিডফিল্ডার সাব্বির হোসেন। সর্বশেষ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে ফর্টিজ এফসির হয়ে দ্বিতীয় পর্বে খেলেছিলেন সিলেটের ২৩ বছর বয়সী তরুণ জিল্লুর। ১১ ম্যাচে ১২ গোল করে তিনি সাড়া ফেলে দেন। স্বাধীনতার কোচ জাহাঙ্গীর আলম জিল্লুর সম্পর্কে বলেন, ‘ফর্টিজের হয়ে জিল্লুর ওর জাত চিনিয়েছে। বিদেশিদের ভিড়ে ও নিয়মিত সুযোগ পেয়েছে তার গতি ও ক্ষিপ্রতার কারণে। লিগে নিজের ফর্মটা ধরে রাখতে পারলে জাতীয় দলে তার ডাক পাওয়া আমাকে অবাক করবে না।’ মিডফিল্ডার সাব্বিরের মধ্যে বড় খেলোয়াড় হওয়ার সবরকম উপাদানই খুঁজে পান জাহাঙ্গীর, ‘বয়স ১৯ হলেও তার উচ্চতা চোখে লাগার মতো। আমার চোখে সাব্বির একজন ভার্সাটাইল খেলোয়াড়। বল ডিস্ট্রিবিউশনে ওই তীক্ষèতা আমাকে অবাক করেছে।’ বয়সে এদের চেয়েও তরুণ আসাদুল ইসলাম সাকিব। লেফট উইং পজিশনে বল পায়ে ওর কারিকুরি মুগ্ধ করেছে অনেককেই। বিশেষ করে ওয়াল পাসে দূর্দান্ত। ১৮ বছর বয়সেই অনেক পরিণত। তার আরেকটা পরিচয় জাতীয় দলের অপরিহার্য লেফট উইঙ্গার রাকিব হোসেনের আপন ছোট ভাই সাকিব। বিকেএসপির এই ছাত্র গত চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেছেন উত্তরা ফুটবল ক্লাবের হয়ে। এ বছর উত্তর বারিধারায় সুযোগ পেয়েই খেলছেন নিয়মিত। এর মধ্যেই সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন তিন গোল।

এবারের লিগে আলোচনায় থাকতে পারেন টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে উঠে আসা আদিবাসী তরুণ সমৃদ্ধ নক্রেক। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার এই স্টপারব্যাককে দলে নিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। ২০১৭ সালে একবার প্রিমিয়ার লিগে ফরাশগঞ্জের হয়ে খেললেও গত চার বছর খেলেছেন চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে। আক্রমণে যোগ দিয়ে গোল করার অসাধারণ দক্ষতার কারণেই তাকে দলে নেওয়ার কথা জানালেন মুক্তিযোদ্ধার ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম, ‘ডিফেন্সে মাথা ঠান্ডা খেলোয়াড় খুব বেশি নেই আমাদের দেশে। সমৃদ্ধর মধ্যে এই গুণটি আছে। তবে আক্রমণে যোগ দিয়ে নিয়মিত প্রতিপক্ষের রক্ষণে হামলা দিতে পারে সে। বিসিএলে ওয়ারি ক্লাবে তার এই গুণগুলো দেখেই এবার দলে নিয়েছি।’

এই ছয় তরুণ ছাড়াও আলো ছড়িয়েছেন স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘের রাইট উইঙ্গার রাসেল আহমেদ, আবাহনীর রাইট ব্যাক মনির হোসেন, মোহামেডানের শাহরিয়ার ইমনরা। আসছে লিগ হতে পারে এই তরুণদের প্রমাণের মঞ্চ।