পেঁচা ‍যুগলের আদুরে ছবি তুলতে এক সপ্তাহ অপেক্ষা

সম্প্রতি ভারতীয় নেট মাধ্যমে এক জোড়া পেঁচার ছবি ভাইরাল হয়েছে। গাছের ডালে একে অপরের গায়ে ঠেস দিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছে তারা।

ছবি তোলার পর ফোটোগ্রাফার ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘রিয়েল লাইফ লাভ-বার্ড’। ছবিগুলোর তোলার জন্য যে কসরত করতে হয়েছে সেই কাহিনি শুনিয়েছেনও ওই ফোটোগ্রাফার।

মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা ফটোগ্রাফার অশ্বিন কেঙ্কারে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সম্প্রতি ভান্ডারায় শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলেন তিনি। এক দিন রাতে জাতীয় সড়ক ধরে বাড়ি ফিরছিলেন। তখনই সড়কের ধারে একটি গাছে পেঁচা দু’টি নজরে আসে তার। পর দিন খুব সকালেই ক্যামেরা নিয়ে ওই গাছের সামনে হাজির হন অশ্বিন।

তার কথায়, ‘ভাবতে পারিনি যে ওই একইভাবে বসা অবস্থায় পেঁচা দু’টিকে দেখতে পাব। তবে ওরা অন্য ডালে গিয়ে বসেছিল। সকালে এত কুয়াশা ছিল যে ওদের ছবি ঠিকমতো তুলতে পারিনি।’

কয়েকটা ছবি তুলেই চলে যান অশ্বিন। তবে মনে একটা খচখচানি থেকেই গিয়েছিল। কিন্তু পেঁচা দু’টির ছবি তোলার নেশা আর জেদ যেন চেপে ধরেছিল অশ্বিনকে।

তিনি বলেন, ‘ওদের ছবি তোলার জন্য প্রতি দিন ওই গাছের সামনে ক্যামেরা নিয়ে হাজির হতাম। কিন্তু মনের মতো শট কিছুতেই পাচ্ছিলাম না আবহাওয়া ভালো না থাকার কারণে।’

সপ্তম দিনের মাথায় সুযোগটা এসে গেল। আকাশ পরিষ্কার। স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল পেঁচা দুটিকে। যথেষ্ট আলোও ছিল ছবি তোলার মতো। দুটি পেঁচার মধ্যে একটি তখন ঘুমে মগ্ন। অন্যটি আধখোলা চোখে তাকিয়ে রয়েছে। যেন একজন আর একজনকে পাহারা দিচ্ছে!

অশ্বিন বলেন, ‘তবে আমি অপেক্ষা করছিলাম দু’টি পেঁচা কখন চোখ খোলে তার জন্য। তার পরই ছবিটা তুলব। ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করেছিলাম। কিন্তু সেই শটের সৌভাগ্য হয়নি। অগত্যা ঘুমন্ত এবং আধ ঘুমন্ত পেঁচার ছবি তুলেই সন্তুষ্ট হতে হলো। তবে ওরা যদি আমার দিকে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে থাকত, আর সেই ছবিটা তুলতে পারতাম, তা হলে আরও ভালো হতো।’

শ্বশুর অনিল থোটেকে ধন্যবাদ দিয়েছেন অশ্বিন। তার কথায়, ‘শ্বশুরমশাইয়ের জন্যই এই ছবি তোলা সম্ভব হয়েছে। তাকে রোজ সকালে ঘুম থেকে টেনে তুলতাম আমাকে ওই গাছের কাছে গাড়ি করে নিয়ে যাওয়ার জন্য।’

সব মিলিয়ে পেঁচা দুটির আদুরে ছবি তুলেই বেশ প্রশংসা কুড়োচ্ছেন অশ্বিন।