বুলুর মুক্তির দাবিতে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

বিএনএস গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান এম.এন.এইচ বুলুর মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তার পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া অডিটরিয়ামে পরিবারের পক্ষ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। 

এ সময় এম.এন.এইচ বুলুর চার সন্তানের জননী হোসনে আরা নাজ, মেয়ে নুসরাত লায়লা পিংকি বুলু, বিএনএস গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক মোখসুদুজ্জামন, বিএনএস গ্রুপের কো-অর্ডিনেটর-টু-চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তার বড় মেয়ে নুসরাত লায়লা পিংকি বুলু বলেন, ‘বিনাকারণে আমার বাবাকে ৮০ দিন জেলহাজতে রাখা হয়েছে। তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। বাবা চক্রান্তের শিকার। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)  কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তারা কোনো সাড়া দিচ্ছেন না।’

তিনি আরো বলেন, একই তথ্যের ভিত্তিতে একই মামলা দিচ্ছে দুদক ও সিআইডি। কোনো ডকুমেন্ট দেখাতে পারেনি। আমার বাবা মানি লন্ডারিংয়ে যুক্ত নন। বিনাকারণে তিনি জেল খাটছেন। অবিলম্বে তার মুক্তি চাই। 

তিনি বলেন, আমার চাচা আমির হোসেন আমির ফুডসের ব্যবসা শুরুর জন্য তার (আমির) ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নমিনি হিসেবে বাবাকে রেখেছিলেন। তবে সেটার জন্য তারা কোনো পার্টনারশিপে ব্যবসা শুরু করেননি। তার অ্যাকাউন্টের নমিনি দরকার ছিল, সেখানে তাকে নমিনি বানিয়েছেন। সেখানে বাবার কোনো সইও নেই। আমির ফুডসের ব্যবসায় তিনি জড়িত নন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বুলুর স্ত্রী হোসনে আরা নাজ বলেন, ‘ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক কর্তৃক দুই দফা অনাপত্তি সার্টিফিকেট ও সিএমএম আদালত কর্তৃক চার্জশিট হতে অব্যাহতি আদেশ থাকা সত্ত্বেও একই বিষয়ে ভিন্ন দুটি সংস্থাকর্তৃক বারবার মামলা দায়েরের কারণে এম.এন.এইচ বুলুর মুক্তি হচ্ছে না। বর্তমানে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও কারখানা প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। এতে শ্রমিকরা প্রায় তিন মাস বেতন-ভাতাদি না পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।’

প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর কাছে এম.এন.এইচ বুলুকে  মুক্তি দেওয়ার আবেদন জানান হোসনে আরা নাজ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ‘ন্যাশনাল কেমিক্যাল ম্যানু. কোং. লি. এবং এবিকো ইন্ডাস্ট্রিজ লি. এর মালিক এম.এন.এইচ বুলু বিএনএস গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান। এ ছাড়া তিনি বিএনএস গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন পত্রিকার প্রকাশক, চ্যানেল-২১ এর চেয়ারম্যান এবং বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। স্পন্সর শেয়ার হোল্ডার হিসেবে মালিকানা, প্রাইম এশিয়া ইনিভার্সিটি এবং অস্ট্রেলিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ঢাকা-এর একজন সম্মানিত ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য। তিনি ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্র গুলশান, বনানী ও উত্তরা এলাকায় তিনটি বাণিজ্যিক বহুতল ভবনের মালিক। এম.এন.এইচ বুলুর মালিকানাধীন বিএনএস গ্রুপ অব কোম্পানিজের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় শত শত শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত আছেন।

তিনি বলেন, সামাজিক দায়িত্ববোধের অংশ হিসেবে তিনি বিগত ২০১৫ সালে বিএনপি কর্তৃক প্রদত্ত অবরোধ চলাকালীন অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত একশত ব্যক্তি ও পরিবারের মাঝে এক লাখ টাকা করে নগদ সহায়তা প্রদান করেন এবং বহু সামাজিক সংগঠনে সাহায্য-সহযোগিতা করে আসছেন।

পরিবার জানায়, এম.এন.এইচ বুলু গত ১৬ নভেম্বর ২০২১ থেকে জেলহাজতে আটক আছেন। আমির ফুড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের রপ্তানির বিপরীতে সরকারি প্রণোদনার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত ২০১৫ সালের ৮ মার্চ বনানী থানায় একটি মামলায় এম.এন.এইচ বুলুকেআমির হোসেনের ব্যাংক হিসাবের নমিনি দেখিয়ে ৩ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু উক্ত ব্যাংক হিসাবের নমিনি ফরমে এম.এন.এইচ বুলুর কোনো স্বাক্ষর নেই। এই প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. আমির হোসেন, যিনি এম.এন.এইচ বুলুর প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা অবস্থায় উক্ত কার্যকলাপ করেন। বিষয়টি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের দালিলিক কাগজপত্রাদি যাচাই-বাছাই করে বুলুর নাম এজাহার থেকে বাতিল করার জন্য অবহিতপূর্বক গত ২০১৭ সালের ২২ জানুয়ারি তারিখে একটি সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়।

পরবর্তীতে বিজ্ঞ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নং-১ এর বিচারক উক্ত মামলার চার্জশিট শুনানিতে গত ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এম.এন.এইচ বুলুকে অব্যাহতি প্রদান করেন। কিন্তু এরপরও ঠিক একই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন দুটি সংস্থা যথাক্রমে- সিআইডি ও দুদক ২০২০ সালের ১৩ আগস্ট পুনরায় মামলা দায়ের করে। অদ্যাবধি এম.এন.এইচ বুলু জেলহাজতে রয়েছেন।