ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব: শিক্ষার্থীদের উসকে দিয়ে প্রধান শিক্ষককে `ঝাড়ুপেটা'

কুষ্টিয়ায় ম্যানেজিং কমিটির ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের উসকে দিয়ে প্রধান শিক্ষককে পুলিশ প্রহরায় ঝাড়ু ও জুতা পেটার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বারখাদা মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে ‘অভিভাবকদের ব্যানারে’ স্থানীয়দের মানববন্ধন চলাকালে এই ঘটনা ঘটে।

এ সময় ধারণ করা ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, ‘সকাল থেকেই বিদ্যালয়ে অভিভাবকেরা ঝাড়ু ও লাল কার্ড এবং একটি ব্যানার নিয়ে গেটে অবস্থান করে। সবাইকে প্রধান শিক্ষকের আগমনের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। একে একে আশপাশের এলাকা থেকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা এসে জড়ো হতে থাকে।

প্রধান শিক্ষক বেলা ১১টায় দিকে পুলিশ ভ্যানে করে বিদ্যালয়ে আসেন। এ সময় অভিভাবকেরা স্লোগান দিতে থাকে ‘এই প্রধান শিক্ষক চাই না’।

ওই শিক্ষক আন্দোলনকারীদের কাছে যেতে ধরলে তারা প্রধান শিক্ষকের ওপরে জুতা ও ঝাড়ু নিক্ষেপ করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ লুটপাট, স্বেচ্ছাচারিতা এবং অসৎ আচরণের অভিযোগে এই মানববন্ধন করে আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারী অভিভাবক মো. আজিজুর রহমানের অভিযোগ, ‘প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে শিক্ষার নামে ব্যবসা খুলে বসেছেন। যেসব শিক্ষকেরা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ান, তাদের কাছ থেকেও টাকা নেন। শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশ উপেক্ষা করে করোনার সময়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সেশন ফি, অতিরিক্ত পরীক্ষার ফি নিয়েছেন। আমরা বেশির ভাগই গরিব মানুষ। কেউ টাকা দিতে না পারলে তাকে পরীক্ষায় ফেল করানো হয়। সেই সঙ্গে আবার ১০০০ টাকা দিতে হয় পাশ করানোর জন্য।

স্থানীয় পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহবুবুর রহমান পাখি বলেন, গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনের লক্ষ্যে ১০টি নমিনেশন পত্র বিক্রি করেন প্রধান শিক্ষক। ১০ জানুয়ারি ভোট গ্রহণের কথা ছিল। এর মধ্যে দিয়ে হঠাৎ করে প্রধান শিক্ষক লাপাত্তা হয়ে যান। কয়েক দিন পর শুনি প্রধান শিক্ষক গোপনে তার পছন্দের লোক নিয়ে পকেট কমিটি করেছে।

এ বিষয়ে অপর পক্ষের নেতা ও পূর্বের অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি তোজাম্মেল হককে ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।  

এসব অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, ‘আমার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী ও অভিভাবকেরা যে অভিযোগ করছেন তা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা বানোয়াট ও মনগড়া। এখানে মূল সমস্যা হলো বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিকে নিয়ে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে বিবদমান দ্বন্দ্ব। বর্তমান যে কমিটি এখানে করা হয়েছে তা প্রকৃতপক্ষে রাজনৈতিক চাপে পড়ে এভাবে গোপনে কমিটি করতে আমি বাধ্য হয়েছি। এখানে আমার কিছু করার নেই। নিরুপায় হয়ে এই ম্যানেজিং কমিটিকে মেনে নিতে হয়েছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষক বলেন, এখানে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি তোজাম্মেল হক ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন গ্রুপের সঙ্গে স্থানীয় পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহবুবুর রহমান পাখি ও মুন্না মাজহার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির ক্ষমতা দখল কেন্দ্রিক দ্বন্দ্ব চলে আসছে। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণে এটি আরও প্রকট হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি, তদন্ত) নিশিকান্ত সরকার জানান, বুধবার সকালে বারখাদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা মানববন্ধন করছে এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ভূমিকা নেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।