সারা দেশে ৪৯৪ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের বকেয়া সবচেয়ে বেশি। এছাড়া বিদ্যুৎসংক্রান্ত ২১ হাজার ৮৩৮টি মামলা বর্তমানে চলমান।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব এ তথ্য জানান। এর আগে সংসদীয় কমিটি এ সংক্রান্ত তথ্য জানতে চায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সচিব এসব তথ্য জানান।
এছাড়া বৈঠকে বৈদ্যুতিক যান চার্জিং বিষয়ক নীতিমালা দ্রুত চূড়ান্ত করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ এ নীতিমালাটি গ্রাহকবান্ধব করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কমিটির সভাপতি ওয়াসিকা আয়শা খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, মো. আবু জাহির, নূরুল ইসলাম তালুকদার, আছলাম হোসেন সওদাগর, মোছা. খালেদা খানম ও নার্গিস রহমান অংশ নেন।
কমিটি সূত্র জানায়, বৈদ্যুতিক যান চার্জিং বিষয়ক খসড়া নীতিমালায় ইলেকট্রিক মোটরযানের জীবনকাল মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে ১০ বছর, তিন চাকার যানবাহন ৯ বছর এবং হালকা, মধ্যম ও ভারী যানবাহনের জন্য ২০ বছর ধরা হয়েছে। অনুমোদিত চার্জিং স্টেশন, নিজস্ব ব্যবস্থাপনা, সোলার প্যানেল বা নবায়নযোগ্য যেকোনো জ¦ালানি ব্যবহার করে রিচার্জ করা যাবে। তবে ইলেকট্রিক মোটরযানের নিবন্ধন ও ফিটনেস সার্টিফিকেট, ট্যাক্স টোকেন ও রুট পারমিট দেওয়ার প্রক্রিয়া প্রচলিত পদ্ধতিতেই হবে।
বৈঠকে জানানো হয়, পেট্রলচালিত যানবাহনের প্রতি এক হাজার কিলোমিটারের জন্য যেখানে ৫ হাজার ৩৭৫ টাকা খরচ হয়, সেখানে একই দূরত্বের জন্য বৈদ্যুতিক যানবাহনের ক্ষেত্রে খরচ হবে ১ হাজার ২৫০ টাকা। এছাড়া পেট্রলচালিত যানবাহনের চেয়ে বিদ্যুৎচালিত যানবাহনের যান্ত্রিক দক্ষতা বেশি ও পরিবেশবান্ধব।
বৈঠকে বিদ্যুৎ সচিব জানান, দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিভাগ এ পর্যন্ত ৪২ লাখ ৯৮ হাজার ৩২৪টি প্রিপেইড মিটার স্থাপন করেছে, যা মোট সংযোগের ১৫ শতাংশ। আগামী তিন বছরে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের সর্বনিম্ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ লাখ ২০ হাজার, যা সম্ভব হলে মোট গ্রাহকের ৩৮ শতাংশ প্রিপেইড মিটারের আওতায় আসবে।