আবাহনীর জার্সিতে দ্যুতি ছড়িয়ে যাচ্ছেন সেই শুরু থেকেই। স্বাধীনতা কাপে করেছেন সর্বোচ্চ চার গোল। ফেডারেশন কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে চোটে পড়ার আগেও চার গোলে সবার ওপরে। চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরে প্রিমিয়ার লিগেও গোলের ধারা অব্যাহত রাখলেন ডরিয়েলটন গোমেজ। এই ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারের একমাত্র গোলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রকে হারিয়েছে আবাহনী লিমিটেড। টঙ্গীর শহীদ আহসানউল্লাহ স্টেডিয়ামের বৃষ্টিভেজা মাঠে যদিও খেলা দিয়ে মন ভরাতে পারেনি ছয়বারের লিগ জয়ীরা। তারপরও প্রথম ম্যাচ জয়ে শুরুর স্বস্তি সঙ্গী হয়েছে তাদের। মুন্সীগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে দিনের অপর ম্যাচে এমেরি বাইসেঙ্গের অতিরিক্ত সময়ের গোলে পুলিশ এফসিকে হারিয়েছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব।
ম্যাচ শুরুর দুই ঘণ্টা আগে থেকেই শুরু হয় অঝোর ধারায় বৃষ্টি। এমনিতেই মাঠ পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। অসমান মাঠের নানা জায়গায় পানি জমে গেলে স্বাভাবিক খেলাই কঠিন হয়ে পড়ে। তারপরও প্রথমার্ধে আবাহনীর খেলায় ছিল না পরিকল্পনা ছাপ। চোট থেকে সেরে না ওঠায় মাঠে ছিলেন না ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার রাফায়েল আগুস্তো। তবে ফেডারেশন কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জামালের বিপক্ষে জোড়া গোল করার পর ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়া ডরিয়েলটনের শুরুতেই ফেরাটা ছিল আবাহনীর জন্য বড় সুসংবাদ। তাকে সামনে রেখে ম্যাচটা নাম্বার ১০ পজিশনে শুরু করেন কোস্টারিকান প্লে-মেকার দানিয়েল কলিনদ্রেস। দুই পাশে দুই দ্রুতগতির উইঙ্গার রাকিব হোসেন (লেফট) ও জুয়েল রানার (রাইট) গতিটা ছিল চোখে পড়ার মতো। অধিনায়ক নাবিব নেওয়াজ জীবন নিজের অবস্থান ছেড়ে খেলেছেন নিচে নেমে রাফায়েলের জায়গায়। ব্রাজিলিয়ানের কাজটা সেভাবে করতে না পারলেও প্রথমার্ধে জীবন ছিলেন সপ্রতিভ। তাতেই পাঁচ ডিফেন্ডারে গড়া মুক্তিযোদ্ধার রক্ষণভাগ অরক্ষিত হয়েছে বারবার। শুরুতেই পোস্ট কাঁপিয়েছিলেন কলিনদ্রেস। তৃতীয় মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে তার ভলি দূরের পোস্টে লেগে বাইরে যায়। ১১ মিনিটে বাম দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে রাকিব হোসেনের শট মুক্তিযোদ্ধা কিপার মোহাম্মদ রাজীব কোনোমতে কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন। পরের মিনিটে আবাহনীকে আনন্দে মাতান ডরিয়েলটন। শুরুটা হয়েছিল ডান দিক থেকে। ওভারল্যাপ করে আক্রমণে আসা সুশান্ত ত্রিপুরার ক্রস ডিফেন্সে বাধাগ্রস্ত হয়ে চলে আসে বাঁ দিকে নুরুল নাইম ফয়সালের কাছে। একজনকে কাটিয়ে গোলমুখে লো ক্রস ফেলেন ফয়সাল। মার্কারের চোখ এড়িয়ে তাতে ডরিয়েলটনের আলতো টোকা ফেরার সাধ্যি ছিল না মুক্তিযোদ্ধা গোলরক্ষক রাজীবের। ১৭ মিনিটে আবাহনী পেনাল্টি বঞ্চিত হয়। ডরিয়েলটনের শট বক্সের ভেতর মুক্তিযোদ্ধার এক ডিফেন্ডারের হাতে লাগে। কিন্তু তা চোখ এড়ায় রেফারি আনিসুর রহমানের। পরের মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল পেতে পারত মুক্তিযোদ্ধা। দিদারের থ্রু পেয়ে তেতসুয়াকি মুসাওয়ার কাটব্যাকে ঠিকঠাক পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন মিসরের স্ট্রাইকার আহমেদ আইমান। ২৮ মিনিটে কলিনদ্রেসের ফ্রি-কিক মুক্তিযোদ্ধার জাপানি অধিনায়ক তেতসুয়াকি ক্লিয়ার করলেও ফিরতি বল রাকিবের মাথা ঘুরে আসে মিলাদ শেখের কাছে। এই ইরানি ডিফেন্ডারের জোরালো হেড বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন রাজিব। ৩৩ মিনিটে ইয়ামিন মুন্নার কর্নার ভালো জায়গায় পেয়েও ঠিকঠাক হেড নিতে ব্যর্থ হন তেতসুয়াকি। পরের মুহূর্তেই জাপানিজ মিডফিল্ডার সোমা ওতাঞ্জের ক্রসে তেতসুয়াকির ভলি সাইড পোস্ট কাঁপায়। যদিও আগেই সহকারী রেফারি অফসাউডের ফ্ল্যাগ তোলেন।
ভারী মাঠে দ্বিতীয়ার্ধটা হয়েছে একেবারেই ম্যাড়মেড়ে। প্রথমার্ধের মতো দ্বিতীয়ার্ধটা গুছিয়ে খেলতে পারেনি আবাহনী। জীবন, জুয়েলদের বারবার বল হারানোর সুযোগে মুক্তিযোদ্ধা কিছুটা আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। যদিও সেগুলো কাজে আসেনি।