চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানাধীন জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসী মশিউরের আস্তানায় ব্যাপক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে র্যাব-৭। এ ঘটনায় কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে অভিযান চালায় বলে উল্লেখ করে র্যাব। এ সময় বাহিনীটির উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রফিকুল ইসলাম মালু (৪১), মো. সিরাজুল ইসলাম (৩৪), মো. হাসান (৩৫), জামাল শেখ (৪৭) ও মিজানুর রহমান কদর। তাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের একাধিক থানায় মামলা রয়েছে।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তারদের নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের ব্যাপক অভিযান চালানো শুরু করতেই মশিউরের ছেলে শিবলুর নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী ইট-পাটকেল, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে র্যাবের ওপর আক্রমণ করে। তারা গ্রেপ্তারদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে র্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ শুরু করে সন্ত্রাসীরা। র্যাব পাল্টা জবাব দিলে সন্ত্রাসীরা গুলি করতে করতে দুর্গম পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়। এ সময় র্যাব মোট ১২৯ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। এরপর রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মশিউরের আস্তানায় তল্লাশি চালায় র্যাব।
এ সময় সন্ত্রাসীদের আক্রমণে কয়েকজন র্যাব সদস্য কিছুটা আঘাতপ্রাপ্ত হন।
অভিযানকালে ১০টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ১টি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১টি ধারালো ছোরা এবং মোট ২২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া আস্তানা থেকে মিলিটারি গেজেট, মিলিটারি পোশাক, মিলিটারি বাইনোকোলার ও অবৈধ ধাতব মুদ্রা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্রের ভিত্তিতে পৃথক তিনটি অস্ত্র মামলা ও র্যাবের ওপর আক্রমণ, সরকারি কর্তব্যে বাধা প্রদানের কারণে একটি অ্যাসল্ট মামলা, মিলিটারি উপকরণ রাখা ও অবৈধভাবে ধাতব মুদ্রা রাখায় পৃথক পৃথক মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন।
জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে সলিমপুর এলাকায় প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি, সরকারি জমি প্লট আকারে লোকজনের কাছে বিক্রয় করে টাকা আদায় করে আসছে। এলাকার দরিদ্রদের কাছে মশিউর নিজ মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে সরকারি মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি টাকা আদায় করত। এ সব অপরাধকর্ম চালিয়ে যাওয়ার স্বার্থে মশিউর ও তার ছেলে শিবলু একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে।
গ্রেপ্তার রফিকুল ইসলাম মালুর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলার বায়েজিদ থানায় ১টি, সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৫টি অস্ত্র মামলা, হাসানের বিরুদ্ধে ৭টি, জামাল শেখের বিরুদ্ধে ১০টি এবং মিজানুরের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় ১০টিরও বেশি মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামি ও উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন বলেও জানায় র্যাব।