বলেছিলাম পরিস্থিতির উন্নতি হলে দেখতে যাব: রুনা লায়লা

লতা মঙ্গেশকর ও রুনা লায়লা। প্রতিবেশী দুই দেশের আন্তর্জাতিক দুই মুখ। তাদের মধ্যে বরাবরই হৃদ্যতার সম্পর্ক ছিল। রুনা বলছেন, তার ছিলেন বন্ধু। কথাও দিয়েছিলেন করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সুর সম্রাজ্ঞীর সঙ্গে দেখা করবে। কিন্তু তা হলো না।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় মাসখানেক হাসপাতালে ছিলেন লতা। রবিবার সকাল সোয়া ৮টার আগে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এ দিনে স্মৃতি ও শ্রদ্ধার আর্গল খুলে দিলেন রুনা লায়লা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, যে কণ্ঠটি আমার মতো লাখ লাখ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে তিনি এখন স্বর্গীয় দূতদের জন্য গান করছেন। বছরের পর বছর ধরে আমরা ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটি সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলেছি এবং সর্বোপরি বন্ধু ছিলাম।

রুনা ও লতার প্রায় দিনই কথা হতো। টেলিফোনের দীর্ঘ আলাপে তারা সাধারণত সংগীত নিয়ে কথা বলতেন। এমনকি রুনা ‘সাহস করে’ অনুমতি নিয়ে লতাকে জোকস পাঠাতেন। লতা তা খুবই উপভোগ করতেন।

রুনা জানাচ্ছে, লতা দারুণ রসিক ছিলেন। নিজের মজার মজার অভিজ্ঞতা শোনাতেন, আর দুজনে মিলে হাসতেন।

বাংলাদেশের গায়িকার ভাষ্যে, ‘আমি তার কথা শুনতে ভালোবাসি. সেই মধুর ফোঁটা কণ্ঠ আমার কানে সংগীত ছিল।’

রুনার ‘শুভ সকাল’ বার্তার উত্তরে লতার তার পছন্দের ছবি পাঠাতেন। থাকতো তার গানের অডিও-ভিডিও। তবে যার বেশির ভাগই রুনা আগেই শুনেছেন বা মুখস্থ করেছেন, কিন্তু প্রতিটিই বার্তাই ছিল তার কাছে অতিরিক্ত বোনাস।

প্রতি বছর রুনার জন্মদিনে শাড়ি পাঠাতেন লতা। গতবার বলেছিলেন, ‘যেহেতু তুমি লন্ডনে যাচ্ছো, তুমি ঢাকায় ফিরে এলে আমি উপহার পাঠাব।’

কিন্তু রুনার মতে, তার কাছে সবচেয়ে বড় উপহার ছিলেন খোদ লতাই।

লতা বরাবরই রুনাকে ভালোবাসতেন ও তার প্রতিভাকে সম্মান করতেন।

রুনা লন্ডনে যাওয়ার আগে লতার সঙ্গে শেষবার কথা হয়। তখন জানান, রুনাকে তিনি ছোট বোন ও পরিবারের সদস্যের মতোই দেখেন।

রুনা লায়লা বলেছিলেন, পরিস্থিতির উন্নতি হলে লতাকে দেখতে যাবেন, কিন্তু তা আর হওয়ার নয়।

‘রুনাজি আপ ক্যাসি হ্যায়?’ এমন কথা আর শুনতে পাবেন না রুনা। জানালেন, এক নির্জনতা আর শূন্যতার বোধ তার সঙ্গে চিরকাল থাকবে। ‘আশীর্বাদ’ হিসেবে রয়ে গেল লতার ভয়েস মেসেজগুলো।