পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে নিখোঁজ ব্যক্তির স্বজনদের নিয়ে গড়ে ওঠা সংগঠন ‘মায়ের ডাক’।
সোমবার এক বিবৃতিতে তারা দুই মন্ত্রীর ওই বক্তব্যকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দেয়। কয়েক ব্যক্তির গুমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুই মন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, জাতিসংঘ নয়, জাতিসংঘের কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান আমাদের একটি তালিকা দিয়েছিল। পরে দেখা গেল, ভূমধ্যসাগরে অনেক লোকের সলিলসমাধি হয়েছে।
একই দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, আমরা সব সময় বলি, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী গুমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। যেখানেই গুম হচ্ছে, সেখানেই আমরা কিছুদিন পরেই তাকে পাচ্ছি। নানা কারণে আত্মগোপন করে থাকে, সেগুলোকে গুম বলে চালিয়ে দেয়। বাংলাদেশে কেউ গুম হয় না।
সোমবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে মায়ের ডাক দাবি করে, ‘৭ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের পাঁচ দিনব্যাপী বৈঠকের পূর্বে দুই মন্ত্রী অসত্য বক্তব্য দিলেন। ওয়ার্কিং গ্রুপের এই ১২৬তম বৈঠকে বাংলাদেশসহ ২৪টি রাষ্ট্রের ৩০০টিরও বেশি গুমের ঘটনার বিষয়ে আলোচনা করা হবে। এই সময়ে তাদের এই মিথ্যা বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের গুমের ঘটনাগুলো অস্বীকার করা হয়েছে’।
বিবৃতিতে তারা বলে, ‘অথচ রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলো যে গুমের সঙ্গে জড়িত সেই সব ঘটনার অনেক প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছেন এবং বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন থেকেও গুমের ঘটনার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা বহু বছর ধরে তাদের প্রিয়জনদের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। স্বজনদের ফিরে পাওয়ার দাবিতে তারা বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা অসংখ্যবার আবেদন করলেও গুম হওয়া ব্যক্তিদের তাদের প্রিয়জনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। মায়ের ডাক মনে করে দায়িত্বরত মন্ত্রীদের এই ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলকে মিথ্যা ধারণা দেওয়ার একটি ন্যক্কারজনক প্রচেষ্টা’।
মায়ের ডাক বলে, ‘গুম একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ। এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের এক দিন না এক দিন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে। যারা নির্দেশিত হয়ে সরাসরি গুমের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এবং এসব ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য যারা অনবরত মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছেন তারা উভয়েই সমান দোষী’।
বিবৃতিতে বলা হয়, এর আগে জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এনফোর্সড অর ইনভলান্টারি ডিসঅ্যাপেয়ারেন্সেস কর্তৃক বাংলাদেশে গুম ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করা হয় এবং গুম ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ সদস্যরা সরকারের নির্দেশে দফায় দফায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলার নামে হয়রানি করে এবং পুলিশ সদস্যরা গুমের শিকার ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন এবং পরিবার তথ্য গোপন করেছেন এই মর্ম কাগজে স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য ভিকটিম পরিবারের সদস্যদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। ২০০৯ সাল থেকে দেশে গুম হওয়ার ঘটনা ব্যাপকভাবে শুরু হয় এবং ২০১৪ ও ২০১৮ সালের বিতর্কিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে বিরোধী দলকে দমনের উদ্দেশ্যে অনেক গুমের ঘটনা ঘটে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা এর শিকার হন’।