সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে তৈরি জটিলতার শেষ কোথায়?

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২২-২৪ মেয়াদের নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক শেষ হয়েও শেষ হচ্ছে না। গত ৫ ফেব্রুয়ারি শিল্পী সমিতির আপিল বোর্ডের রায়ে জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল হলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হন চিত্রনায়িকা নিপুণ। ফলে ৬ ফেব্রুয়ারি এফডিসিতে শপথ নেন ইলিয়াস-কাঞ্চন নিপুণসহ অন্যান্য পদে নির্বাচিত সদস্যরা। নতুন কমিটি শপথ নেওয়ার ফলে সবাই ভেবেছিলেন, শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক আপাতত শেষ হলো। কিন্তু ৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরের দিকে জায়েদ খান শিল্পী সমিতির আপিল বোর্ডের রায়ের বিরুদ্ধে রিট করেন। জায়েদের আবেদনের প্রেক্ষিতে শিল্পী সমিতির আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্তকে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় জানা গেল জায়েদের রিটের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করবেন চিত্রনায়িকা নিপুণ। সব মিলিয়ে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। প্রশ্ন উঠেছে এই জটিলতার শেষ কোথায়?

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় বেশ কয়েকজন শিল্পীর সঙ্গে। কিন্তু তারা কেউই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি নন। সবার মন্তব্য একটাই- বিষয়টা যেহেতু আদালতে গড়িয়েছে তাই আদালতের রায়ের অপেক্ষাতেই থাকতে হবে আমাদের।

এদিকে এই জটিলতা দীর্ঘায়িত হলে সে ক্ষেত্রে সমিতির কার্যক্রম কীভাবে চলবে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিল্পী বলেন, ‘আদালত কী রায় দিবে জানি না। শিগগিরই সুরাহা হলে ভালো। আর জটিলতা দীর্ঘায়িত হলে সেটা সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেবে। তবে এ রকম পরিস্থিতিতে এর আগে দেখেছি, জটিলতা তৈরি হওয়া পদটিকে স্থগিত ঘোষণা করে সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয় অন্যথায় নির্বাচিতদের কাউকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। শিল্পী সমিতির ক্ষেত্রে এমন জটিলতা তৈরি হলে হয় প্রশাসক না হয় সহসাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত সাইমন সাদিককে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে আদালতের রায়ের উপর। ফলে আপাতত অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’

উল্লেখ্য, গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন। এ নির্বাচনে সভাপতি পদে জয়ী হন ইলিয়াস কাঞ্চন ও সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খান। অপর সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী চিত্রনায়িকা নিপুণ জায়েদের বিরুদ্ধে ‘টাকা দিয়ে ভোট কেনা’, কারচুপিসহ বেশ কিছু অভিযোগ তোলেন। নিপুণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাতিল করা হয় জায়েদের পদ। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শপথ নেন নিপুণ। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। এই নাটকের শেষ দেখতে হলে অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।