তৈরির পর থেকেই ‘কাজে আসছে না’ কোটি টাকার সেতু

চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুতে সংযোগ সড়ক না থাকায় ও মাটি কমে যাওয়ায় কাজে আসছে না। পাঁচ বছর আগে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ও আদমপুরের মধ্যবর্তী ধলাই নদীর ওপরে সেতুটি নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

সংযোগ সড়ক তৈরি না করায় এলাকাবাসী মাটি দিয়ে কোনো রকমে একটি সড়ক তৈরি করেছে। এই সেতু দিয়ে মানুষ পার হতে পারলেও যানবাহন চলাচল করার পরিবেশ নেই। দিন দিন মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় কৃষকেরা সেতুটি ধান শুকানোর কাজে ব্যবহার করছেন।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার আদমপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের মধ্যে সংযোগ হয় এই সেতু দিয়েই। দুই ইউনিয়নে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস, কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় ২০ কিলোমিটার পথ বেশি ঘুরতে হচ্ছে।

মাধবপুর ইউনিয়নের শুকুরউল্লাহর গাঁও গ্রামের আসমা বেগম, ছাদেক মিয়া, জয়নাল মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ সেতুটি উদ্বোধনের সময় দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন স্থানীয় সাংসদ। কিন্তু ৫ বছর পার হয়ে গেলেও সড়ক আর হলো না। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের। বিশেষ করে প্রসূতিদের হাসপাতালে নিতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’

কৃষক মান্নান মিয়া, জসিম উদ্দিন ও সালাম মিয়া বলেন, ‘আমাদের এলাকার ৮০ ভাগ মানুষ কৃষি কাজ করেন। মৌসুমী ফসল উপজেলা সদরসহ জেলায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেতুটি ব্যবহার করতে না পারায় ২০ কিলোমিটার রাস্তা বেশি ঘুরতে হয়। ফলে সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে। এতে করে ফসল উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে।’

এ এলাকার সদ্য সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল কুমার সিংহ বলেন, ‘সেতুটির সংযোগ সড়কে কিছু মাটি ভরাট করা হলেও বৃষ্টির কারণে মাটি সরে গিয়ে সেতুর দুপাশের বেহাল অবস্থা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশল অফিসের লোকজন এসে রাস্তাটি মেপে নিয়ে গেছে।’

মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু বলেন, ‘সড়ক ও সেতুর বেহাল অবস্থা থাকায় এলাকাবাসীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সড়ক নির্মাণ করা হলে দুই ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও একধাপ এগিয়ে যেত।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন। রাস্তাটি সরু হওয়ায় এবং স্থানীয়রা জমি না দেওয়ায় সড়কের কাজ করতে সমস্যা হচ্ছিল। রাস্তাটি মেপে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’