মাদারীপুরে তাবলিগ জামাতের ১৪ মুসল্লিকে অচেতন করে মোবাইল-টাকা লুট

মাদারীপুরের একটি মসজিদে পানিতে চেতনানাশক মিশিয়ে তাবলিগ জামাতের ১৪ মুসল্লিকে অচেতন করে টাকা ও মোবাইল লুট করেছে দুর্বৃত্তরা।

সোমবার রাতে কালকিনি উপজেলার পৌর এলাকার ২নং ওয়ার্ডের চর ঠেংঙ্গামারা বড় ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার ভোরে অচেতন অবস্থায় তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার তাবলিগ জামাতের ১৪ সদস্যের একটি দল সিলেটের মৌলভীবাজার থেকে কালকিনি উপজেলার চর ঠেংঙ্গামারা জামে মসজিদে আসেন।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় পরে ২ জন অজ্ঞাতনামা যুবক তাদের স্থানীয় বলে পরিচয় দিয়ে তাদের সঙ্গে সময় কাটায়। রাতে এশার নামাজ আদায় করে মুসল্লিরা রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।

মঙ্গলবার ভোরে স্থানীয় মুসল্লিরা নামাজ পড়তে আসলে মসজিদের ভেতর তাদের অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের ১৪ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

অসুস্থরা হলেন- আবদুর রহিম (৪৫), হাবিবুর রহমান (৫৭), আতাউর রহমান (৫৫), মুতাহির আলী (৬০), আহির আলী (৬৪), আবদুল করিম (৭৫), আবদুল ওয়াহিদ (৭০),  মহিম উদ্দীন (৬৫), হামিদুর রহমান (১৮), সোনা মিয়া (৭০), তাহের আলী (৭০), নুরুল হক (৫৭), আমীর আলী (৮৯), মেজনাহ উদ্দিম (৬০)। সবার বাড়ি সিলেটের মৌলভীবাজার বড়খোলা এলাকায়।

তাবলিগ জামাত দলের সদস্য হামিদুর রহমান বলেন, সোমবার ২ জন লোক সন্ধ্যার দিকে মসজিদে আসেন। আমাদের ধারণা তারা আমাদের খাবার পানিতে চেতনানাশক কিছু মিশিয়েছেন। আমরা অচেতন হওয়ার পরে তারা আমাদের সঙ্গে টাকা টাকাপয়সা, মোবাইল ফোন সব নিয়ে গিয়েছে।

কালকিনি পৌর এলাকার চর ঠেংঙ্গামারা জামে মসজিদ কমিটি সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান জানান, আমাদের মসজিদে সোমবার তাবলিগের জামাত আসে কিন্তু ফজরের নামাজে এসে দেখা যায় জামাতের সাথিরা সবাই উল্টাপাল্টা হয়ে শুয়ে পড়ে আছে। এরপর সবাইকে হাসপাতালে নেয়া হয় এবং পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।

কালকিনি উপজেলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ড. অভিজিৎ কুমার গোস্বামী জানান, সকালে অনেক কয়জন মানুষ হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় ভর্তি হয়। আমরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি। যাদের বয়স একটু বেশি তারা গুরুতর তাই তাদের হাসপাতালে রেখেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইশতিয়াক আশফাক রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা সকালে সংবাদ পাওয়ার পরপর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে তদন্ত করছি।