শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের সচিত্র প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে উপাচার্যের বাস ভবন, আইআইসিটি ভবন, এক কিলো রোড ও চেতনা-৭১ ঘুরে আবারও গোলচত্বর এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
মিছিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, অনশন, আন্দোলনের দিনগুলোর প্রতিবাদী ছবি সংযুক্ত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড, স্লোগান দিয়ে ক্যাম্পাসে নিজেদের অবস্থান জানান দেন শিক্ষার্থীরা।
এর আগে এদিন দুপুর থেকেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে প্লাকার্ড গুলো তৈরি করে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কেউ রং তুলি দিয়ে স্লোগান লিখছে, কেউ ছবি আঁকছে, আবার কেউ বাঁশ দিয়ে প্লাকার্ডগুলো তৈরি করছে।
প্লাকার্ডে লেখা ছিল- ‘আমাদের সংগ্রাম চলছে, চলবে’, ‘ফরিদের গতি অস্তাচলে, ফরিদ যাবে রসাতলে’, ‘পালা চাটুকার, পালা’, ‘১, ২, ৩, ৪ ফরিদ তুই শাবি ছাড়’, ‘অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করো’, ‘স্প্লিন্টার বিতরণ কেন্দ্র, বিনা মূল্যে শিক্ষার্থীদের শরীরে স্প্লিন্টার সংযোজন করা হয়, যোগাযোগ- শাবি উপাচার্য কার্যালয়’, ‘আমাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ কেন?’, ‘ফরিদ হটাও, শাবিপ্রবি বাঁচাও’, ‘ফরিদের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘সেভ সাস্ট’ বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান লিখেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, গত ২৬ জানুয়ারি দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল কিন্তু ১৫ দিন পার হলেও এখনো আমাদের সকল দাবি মেনে নেওয়ার দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের ওপর করা ২টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নম্বর, বিকাশ, নগদ, রকেট অ্যাকাউন্টসহ অনলাইন লেনদেনের আড়াই শতাধিক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার পর মাত্র ৫টি অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যারা নীরব থেকে আমাদের দাবি মেনে নেওয়ায় বিলম্ব করছে, তাদের আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আমাদের শরীরে লাঠি, বুলেট, বোমার সকল আঘাত, জখম, ঝরা রক্ত আমাদের মনে অক্ষয় শক্তির জোগান দিয়ে অঙ্গার হয়ে জ্বলছে। উপাচার্য পদত্যাগ না করলে আমাদের এই অঙ্গার দাবানলে পরিণত হবে।
উপাচার্যের পদত্যাগের সুস্পষ্ট ঘোষণা আসার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের আন্দোলন চলমান থাকবে বলে জানান তিনি।
এর আগে গত ১৬ জানুয়ারি প্রভোস্ট বিরোধী আন্দোলনের সময় অবরুদ্ধ উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে মুক্ত করতে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে, এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পুলিশসহ অর্ধশতাধিক আহত হন। হামলার পরপরই প্রভোস্ট বিরোধী আন্দোলন উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়, পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক এবং প্রক্টর বডিরও পদত্যাগ দাবি করেন তারা।
পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা ১৯ জানুয়ারি থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে অনশন শুরু করে এবং ১৬৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট পর ২৬ জানুয়ারি অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল ও অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান এবং সব দাবি মেনে নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন।
এ দিকে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদকে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত রবিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক আমিনা পারভীনকে নতুন ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।