দূতাবাসগুলোকে আওয়ামী লীগ প্রচার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দেশে আমাদের দূতাবাসগুলোকে আওয়ামী লীগের প্রচার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। নির্লজ্জ ও অপেশাদার উপায়ে সেই প্রতিষ্ঠানকেও দলীয়করণ করে জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজে লাগানো হচ্ছে। মিথ্যাচার এবং প্রতারণা করার কাজে লাগানো হচ্ছে।’

বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে ভিন্নমত দমন করার কাজে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। গুম, খুন, ক্রসফায়ারের নামে হত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড–রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহারের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয়েছে। ফলশ্রুতিতে লজ্জাজনকভাবে আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে এবং তার কর্মকর্তাদের মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পড়তে হয়েছে, যা জাতির জন্য কলঙ্কজনক।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গত ৩১ জানুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল কমিটির চেয়ার গ্রেগরি ডব্লিউ মিকস নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকায় তহবিল সংগ্রহের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস কংগ্রেসম্যানের বক্তব্য নিজেদের মতো  করে ব্যাখ্যা দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে। এ নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হলে পরবর্তীতে ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিকে নাকচ করে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, তার নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি ওয়েবসাইটে তার বক্তব্য তুলে ধরেন। পরবর্তীতে আমেরিকার দূতাবাস তাদের ওয়েবসাইট থেকে আগের বক্তব্য তুলে নেয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাসের ওয়েবসাইট ভিজিট করে দেখা গেছে, ৩১ জানুয়ারি কংগ্রেসম্যান মিকস সংশ্লিষ্ট প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি তুলে নিলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওয়েব সাইটে প্রেস রিলিজটি এখনো যথারীতি বহাল রয়েছে। যা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দলীয়করণ করার নির্লজ্জ প্রমাণের ডিজিটাল ডকুমেন্ট।’

মির্জা ফখরুল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের দূতাবাসের ন্যায় বেলজিয়ামের অনুষ্ঠিত একটি বেসরকারি সংবাদ সম্মেলনের সূত্র ধরে সেখানে অবস্থিত দূতাবাসের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ  বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। যেখানে সুস্পষ্টভাবে আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মীর  মতো বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। যা দূতাবাসকে রাষ্ট্রের বদলে আওয়ামী লীগের প্রচার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রমাণ।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর জাতীয় সংসদে আইন পাস করে বাকশাল করেছিল। এবার ক্ষমতায় আসার পর থেকে জাতীয় সংসদ, স্থানীয় সরকার কাঠামো, আমলাতন্ত্র, ফরেন সার্ভিস ক্যাডার থেকে শুরু করে সমস্ত ক্যাডার সার্ভিস, বিভিন্ন  রাষ্ট্রীয় বাহিনী,  বিচারিক কাঠামো, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও আইন সংস্কার কমিশনসহ সব প্রতিষ্ঠানকে তারা কেবল অবৈধ ক্ষমতা প্রলম্বিত করার কাজে লাগিয়ে চলছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার ও শায়রুল কবির খান।