কিংবদন্তি গায়িকা লতা মঙ্গেশকরের মহাপ্রয়াণে এখনো কাঁদছে উপমহাদেশের গানের ভুবন। সংগীতের দীর্ঘ ভ্রমণে তিনি মধুবালা, মীনা কুমারী থেকে মাধুরী, কাজল, ঐশ^রিয়াসহ অনেক সুপারস্টার নায়িকার জন্য গান গেয়েছেন। সেই নায়িকারা তাকে নানাভাবে স্মরণ করছেন। লতার শেষ বিদায়ের সময়ের এক টিভি চ্যানেলের সামনে স্মৃতির ঝাঁপি মেলে ধরেন বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। তিনি জানান, লতার ভক্ত তার মা থেকে শুরু করে স্বামী পতৌদির নবাব ও ক্রিকেট তারকা মনসুর আলী খান, এমনকি ছেলে-মেয়ে সাইফ-সোহা। লতা যেমন শর্মিলার জন্য গেয়েছেন, তেমনি গেয়েছেন মেয়ে সোহার জন্যও। লতা কতটা ক্রিকেটপ্রেমী ছিলেন, কীভাবে রেকর্ডিং করতেন নায়িকাদের জন্য সব উঠে এসেছে আলোচনায়। তবে তার মৃত্যুর দুদিন পরে তাকে স্মরণ করেছেন বলিউডের নামজাদা অভিনেত্রী হেমা মালিনী ও ঐশ^রিয়া রাই। তবে একজনকে সবাই সাধুবাদ দিলেও অন্যজন হয়েছেন নিন্দিত। ঐশ^রিয়া কেন লতার মৃত্যুর এতো পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে নিয়ে পোস্ট করলেন? তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন? ঐশ^রিয়া লিখেছেন, ‘আমার সৌভাগ্য যে লতাজির মতো শিল্পীর গানে (হামকো হামিছে চুরালো) আমি অভিনয় করেছি। তিনি আজীবন থেকে যাবেন মানুষের অন্তরে।’ আর হেমা মালিনী এক টিভি চ্যানেলে ভেজা গলায় ওঠেন, ‘আমার সম্পূর্ণ ক্যারিয়ারে লতাজি আর আশাজির গান। আমি অত্যন্ত ভাগ্যবতী যে আমার প্রথম ছবি “সপনো কা সওদাগর”এই লতাজির গান পেয়েছিলাম। আমি আজও সেই গানের রেকর্ডিংয়ের কথা ভুলতে পারি না। আমি প্রথমবার স্বচক্ষে গানের দেবী লতাজিকে দেখেছিলাম। পরে তার সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক পড়ে ওঠে। নাচের সব অনুষ্ঠানে আমি ওনাকে আমন্ত্রণ জানাতাম। উনি আসতে না পারলেও হোয়াটসঅ্যাপে আমাকে শুভেচ্ছা জানাতেন। আমি হোয়াটসঅ্যাপে আমার ছবি ওনাকে পাঠাতাম। আধুনিক প্রযুক্তির বিষয়ে ওনার দারুণ জ্ঞান ছিল। আমার ছবিগুলো বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে আরও সুন্দর করে দিতেন। সত্যি আমাকে উনি খুবই ভালোবাসতেন। কারণে-অকারণে প্রচুর উপহার পাঠাতেন। লতাজি আমাকে অনেকবার শাড়ি পাঠিয়েছেন। শাড়ি পাঠানোর পর উনি ফোন করে জানতে চাইতেন যে শাড়িটি আমার পছন্দ হয়েছে কি না। বলতেন, শাড়িটি দেখে মনে হয়েছে, আমাকে পরলে ভালো লাগবে, তাই উনি কিনেছেন।’