মাটিবাহী অবৈধ যান নষ্ট করছে গ্রামীণ সড়ক

লক্ষ্মীপুরে ট্রাক্টরচাপায় ১ বছরে ৩০ প্রাণহানি

লক্ষ্মীপুরে মাটিভর্তি ট্রাক্টরের অবাধ যাতায়াতে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক। আর অদক্ষ চালকের কারণে গত ১৩ জানুয়ারি সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের নলডগী গ্রামে ৭ বছরের শিশুসহ গত এক বছরে ট্রাক্টরচাপায় মারা গেছেন অন্তত ৩০ জন। আহত হয়েছেন শতাধিক। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হাইওয়ে থানার ওসি মৃদুল কান্তি কুরি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অদক্ষ ও অপ্রাপ্ত বয়স্করাই এসব ট্রাক্টর চালায়। প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও প্রয়োজনের তুলনায় তা যথেষ্ট নয়। এ কারণেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। প্রতিদিন অন্তত চার হাজার অবৈধ ট্রাক্টর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে লক্ষ্মীপুরের সড়কগুলো। এতে হতাহতের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। পিষ্ট হওয়া সড়ক সংস্কার না হওয়ায় জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে বছরের পর বছর। সঙ্গে ধুলাবালির দাপটও রয়েছে। আর ট্রাক্টরে ভারী পণ্য, মালামাল ও মাটি পরিবহনের কারণে নির্মিত ব্রিজ-কালভার্ট প্রতিনিয়ত আয়ু হারাচ্ছে।

একটি সূত্রের দাবি, প্রশাসনের যোগসাজশে অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ট্রাক্টর মালিকরা। এতে বেহাল সড়কে ভোগান্তি বাড়ছে সাধারণ মানুষের।

ট্রাক্টরচালক ইসমাইল হোসেন জানান, তারা এককালীন টাকা জমা দিয়ে সমিতির সদস্য হয়েছেন। এরপর ট্রাফিকসহ প্রশাসন ম্যানেজ করতে মাসিক চাঁদা দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে কয়েকজন চালককে জেল-জরিমানা দেওয়ায় এখন তাদের আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।

সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ছৈয়াল জানান, জমি চাষের ট্রাক্টরও এখন মালপত্র পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে। শত নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেও এসব ট্রাক্টর গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে শহরতলির সড়কগুলোতে চলছে বীরদর্পে। ট্রাক্টরের চাপে নতুন পুরনো সড়ক অল্পতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এর চেয়ে ভয়ংকর হচ্ছে ট্রাক্টরের নিচে চাপা পড়ে অকালে প্রাণ যাচ্ছে মানুষের।

সদর উপজেলার মান্দারি-দাসেরহাট সড়কের চলাচলরত সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক রফিক মিয়া জানান, ইটভাটার জন্য নেওয়া মাটি পরিবহন ট্রাক্টরের যাতায়াতে সড়কে মাটি পড়ে ধুলোবালু ও একটু বৃষ্টি হলে রাস্তা কর্দমাক্ত হয়। এতে যাত্রী নিয়ে যাতায়াতে ও গাড়ি চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ ছাড়া নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় শিকার হতে হয় প্রায়ই।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান ইমাম জানান, নিষিদ্ধ যান বন্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ নিয়ে নিয়মিত অভিযান চলছে।

পুলিশ সুপার ড. এ এইচ এম কামরুজ্জামান জানান, অবৈধ ট্রাক্টর বন্ধ করতে হলে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। মাসিক আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সভায় এ বিষয়ে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।