আধুনিক মানুষের নৃশংসতায় নিশ্চিহ্ন হয়নি নিয়ান্ডারথাল!

দক্ষিণ ফ্রান্সের একটি গুহায় আবিষ্কৃত শিশুর দাঁত ও পাথরের হাতিয়ার আধুনিক মানুষ সম্পর্কে পুরোনো ধারণাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। আগে ধারণা করা হতো আধুনিক মানুষ আফ্রিকা থেকে আসার পরপরই নিয়ান্ডারথালরা নৃশংসভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। কিন্তু নতুন আবিষ্কৃত জীবাশ্ম বলছে অন্য কথা।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, আধুনিক মানুষ তথা হোমো সেপিয়েন্স প্রায় ৫৪ হাজার বছর আগে আফ্রিকা থেকে ইউরোপে এসেছিল বলে নির্দেশ করছে  ওই দাঁত ও হাতিয়ার।

সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে প্রকাশিত এ গবেষণা মতে, আগের ধারণার চেয়ে কয়েক হাজার বছর আগে দুটি প্রজাতি দীর্ঘ সময়ের জন্য সহাবস্থান করতে পারে। ফলে রাতারাতি নিয়ান্ডারথালদের হারিয়ে যাওয়ার তথ্য ঠিক নয়।

টুলুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লুডোভিক স্লিমাকের নেতৃত্বে একটি দল রোন উপত্যকার গ্রোটে ম্যান্ডরিন নামে পরিচিত একটি গুহায় নমুনা হলো আবিষ্কার করে। এখানে প্রাথমিক আধুনিক মানব বসতির প্রমাণ পেয়ে তারা অবাক হয়ে যান।

স্লিমাক বলেন, আমরা দেখাতে পেরেছি যে হোমো স্যাপিয়েন্সরা আমাদের প্রত্যাশিত সময়ের চেয়ে ১২ হাজার আগে এখানে এসেছিলেন। তারপর নিয়ান্ডারথাল জনগোষ্ঠীর বিপরীতে প্রতিস্থাপিত হয়। আক্ষরিক অর্থে আমাদের ইতিহাসের সব বইকে পুনর্লিখন করতে হবে।

নিয়ান্ডারথালরা ৪ লাখ বছর আগে ইউরোপে আবির্ভূত হয়েছিল। প্রচলিত তত্ত্ব মতে, তারা প্রায় ৪০ হাজার বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল, যা হোমো স্যাপিয়েন্স আফ্রিকা থেকে ইউরোপে আসার খুব বেশি দিন পরের ঘটনা নয়।

কিন্তু নতুন আবিষ্কারটি বলছে, আধুনিক মানুষ আরও আগে ইউরোপে এসেছিল এবং নিয়ান্ডারথাল বিলুপ্ত হওয়ার আগে দুটি প্রজাতি ১০ হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে সহাবস্থান করে থাকতে পারে।

লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের প্রফেসর ক্রিস স্ট্রিংগারের মতে, এটি বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গিকে চ্যালেঞ্জ করে। যার অর্থ, নিয়ান্ডারথালের অবস্থান রাতারাতি আধুনিক মানুষ দখল করেনি। তারা সূক্ষ্মভাবে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে ছিল।