নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিনটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট।
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি) না থাকা এবং চাহিদামাফিক নির্দিষ্ট ভোল্টেজের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় এক্স-রে মেশিনটি ২৫ বছর ধরে বাক্সবন্দী রয়েছে।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার দেখা যায়, এক্স-রে মেশিনের কক্ষটি তালাবদ্ধ। রোগীদের এক্স-রে করার জন্য ছুটতে হয় হাতিয়ার বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বা হাতিয়ার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে। এর আগেও এক্স-রে মেশিন না থাকায় রোগীরা এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কখনো এক্স-রে করাতে পারেননি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, প্রায় ২৫ বছর আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জিসি কোম্পানির ১০০ এম এ এক্স-রে মেশিনটি সরবরাহ করা হয়। নতুন অবস্থায়ও হাতিয়ায় বিদ্যুৎ লাইনের সরবরাহকৃত বিদ্যুতে ফ্লাশ না হওয়ায় এ মেশিনে এক্স-রে করা সম্ভব হয়নি। তখন হাসপাতালের জেনারেটর চালিয়ে মাঝেমধ্যে দু-একটা এক্স-রে করা হতো।
২০০২ খ্রিষ্টাব্দে রেডিওগ্রাফার মো. মাসুদ বদলি হওয়ার পর থেকে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পদটি শূন্য রয়েছে। রেডিওগ্রাফারের শূন্য পদ পূরণের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে ১৯ বছর চিঠি চালাচালি অব্যাহত থাকলেও কাজ হয়নি।
২০০৬ সালে নোয়াখালী সিভিল সার্জন অফিসের টেকনিশিয়ানের একটি দল এক্স-রে মেশিনটি পরীক্ষার জন্য হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন।
তারা দেখেন যে মেশিনটির এক্সপোজার সুইচটি কাজ করে না, কলি মিটার জ্বলে না, টাইমার সঠিকভাবে কাজ করে না এবং ফ্লুরসকপি ইউনিট কাজ করে না। ত্রুটিগুলো মেরামত করে এক্স-রে মেশিনটি সচল করা সম্ভব হলেও পনেরো বছরেও তা করা হয়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. নাজিম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মেডিকেল টেকনোলজিস্টের (রেডিওগ্রাফি) শূন্য পদ পূরণ এবং এক্স-রে মেশিনটি মেরামত করা অথবা নতুন এক্স-রে মেশিন সরবরাহ করার জন্য প্রতি মাসেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। আজও এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কোনো সাড়া না পাওয়ায় এ হাসপাতালে রোগীদের কোনো এক্স-রে করা যাচ্ছে না।’