কেরানীগঞ্জের ওয়াসিম হত্যায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর কেরানীগঞ্জের আলোচিত ওয়াসিম হত্যা মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। সাত বছর আগে ওয়াসিমকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ফাইজুন্নেছা এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদপ্রাপ্তরা হলেন- আব্দুল বাতেন, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে আলম, পলক রহমান ওরফে ডেঞ্জার সাগর ও পাপ্পু।

সর্বোচ্চ সাজার পাশাপাশি তাদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে রায়ে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম দস্তগীর জানান, আসামিদের মধ্যে আব্দুল বাতেন ও পলক কারাগারে ছিলেন। রায় ঘোষণার আগে তাদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণা শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে আবার তাদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

আলম ও পাপ্পু পলাতক রয়েছেন। আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।

২০১৫ সালের ৪ এপ্রিল কেরানীগঞ্জ মডেল থানার আগানগর বাঁশপট্টি এলাকা থেকে অচেনা এক ব্যক্তির গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পুলিশের তদন্তে লাশের পরিচয় ও হত্যার কারণ উদঘাটন হয়।

আসামিদের দুজনকে গ্রেপ্তারের পর তারা পুলিশকে জানায়, বাঁশ ব্যবসায়ী আলমকে ক্লাব থেকে বের করে দেন ওয়াসিম। এর জের ধরে তাকে হত্যার জন্য বাতেনকে ভাড়া করেন আলম।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৩ এপ্রিল পলক ও এক কিশোর বাঁশপট্টির একটি কারখানায় বসে থাকেন। বাতেন ও পাপ্পু ওয়াসিমকে বাবুবাজার ব্রিজের ওপর থেকে ডেকে ওই কারখানায় নিয়ে যায়। সেখানে ছুরি দিয়ে গলা কেটে ওয়াসিমকে হত্যা করা হয়।

তদন্ত শেষে ২০১৬ সালে পাঁচজনকে আসামি করে দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করে তদন্ত কর্মকর্তা। এর মধ্যে এক মামলায় বাতেন, পলক, আলম ও পাপ্পুকে আসামি করা হয়। পঞ্চম আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় শিশু আইনে আলাদাভাবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

গত বছরের ২৪ জানুয়ারি চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে আদালত। অন্য মামলাটি শিশু আদালতে বিচারাধীন।