শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) সদ্য নিয়োগ পাওয়া প্রক্টর ইশরাত ইবনে ইসমাইলের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ককে রক্ষার অভিযোগ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
উপাচার্যের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে গত ১০ ফেব্রুয়ারি নতুন প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ পান ইশরাত ইবনে ইসমাইল। উক্ত অভিযোগ এনে নবনিযুক্ত এ প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি এক ছাত্রী ‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন বিরোধী সেল’র কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে জানা যায়, গত ১৬ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির আন্দোলনে ওই ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন। সেদিন বিকলে আইআইসিটি ভবনে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ অবরুদ্ধ থাকার সময় অন্যদের সঙ্গে তিনিও মূল ফটকে অবস্থান নেন। তখন ভিড়ের মধ্য তিনি একাধিকবার যৌন নিপীড়নের শিকার হন। একপর্যায়ে তিনি ওই ব্যক্তির হাত ধরে ফেলেন। এরপর সেখানে উপস্থিত বর্তমান প্রক্টর ইশরাত ইবনে ইসমাইলকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগটি জানান।
ওই ছাত্রী তার অভিযোগে আরো জানান, ইশরাত ইবনে ইসমাইল তাকে সহযোগিতা না করে বলেন, ‘এটা অনিচ্ছাকৃত ঘটনা হতে পারে’। এ সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই ছাত্রীর হাত ছাড়িয়ে চলে যান।
তবে অভিযোগকারী ছাত্রী ওই ব্যক্তিকে চিনতে পারেননি বলে জানান। এত দিন পর অভিযোগ কেন করলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর পরপরই পুলিশি হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি এত দিন ভিন্ন ছিল। অন্যান্য ছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযোগ দিতে কিছুটা সময় লেগেছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ইশরাত ইবনে ইসমাইলকে প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেয় প্রশাসন। এর বেশ কয়েক বছর আগে তিনি সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ বিষয়ে আন্দোলনের মুখপাত্র শাহরিয়ার আবেদিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ১৬ তারিখ পুলিশি হামলার আগে ভিড়ের মাঝে এক আন্দোলনকারী নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটে। এ সময় উপস্থিত ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ইশরাত ইবনে ইসমাইলকে উক্ত ঘটনার ব্যাপারে অবহিত করলে তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে একপ্রকার পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ সেলে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। আমরা কাল (বৃহস্পতিবার) দেখেছি, এ ধরনের ঘটনায় নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করা ব্যক্তিকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের মতো দায়িত্বপূর্ণ একটি পদ দেওয়া হয়েছে! আমরা আজ (শুক্রবার) শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার সময় এ বিষয়ে তাকে অবহিত করেছি এবং তিনি এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন বিরোধী সেলের প্রধান অধ্যাপক ড. নাজিয়া চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত ১ ফেব্রুয়ারি এই বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। এই বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।
এর বেশি কিছু বলতে চাননি এই অধ্যাপক।
আন্দোলনের মুখপাত্র ইয়াসির সরকার বলেন, নবনিযুক্ত প্রক্টর ইশরাত ইবনে ইসমাইল উপস্থিত থেকেও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বাঁচাতে গিয়ে সেই যৌন নিপীড়নের ঘটনা অস্বীকার করার অভিযোগ রয়েছে। আমরা বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীকে অবহিত করেছি। শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়টি দ্রুত দেখবেন বলেছেন।
তবে ইশরাত ইবনে ইসমাইল এ অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে জানান।